রাজধানীতে চলাচলের ক্ষেত্রে ১৮ জন মন্ত্রীর জন্য বরাদ্দ করা পুলিশের বিশেষ পাহারা দল বা ‘এসকর্ট’ সুবিধা তুলে নিয়েছে সরকার। শপথগ্রহণের পর থেকে নিয়মিত এ সুবিধা পেয়ে এলেও এখন থেকে ঢাকার ভেতরে তাদের ছাড়াই চলাচল করতে হবে। সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এখন থেকে কেবল ছয়জন মন্ত্রী ও একজন মন্ত্রী পদমর্যাদার উপদেষ্টা ঢাকায় এ সুবিধা পাবেন।
রবিবার (২৬ জুলাই) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া গেছে। প্রধানমন্ত্রীর অভিপ্রায়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর নির্দেশে ডিএমপি এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করেছে। তবে ঢাকার বাইরে সরকারি বা ব্যক্তিগত সফরে গেলে প্রয়োজন অনুযায়ী সব মন্ত্রীর জন্যই পুলিশের বিশেষ প্রহরা ও সুরক্ষাব্যবস্থা আগের মতোই বহাল থাকবে।
ডিএমপি সূত্র জানায়, বর্তমানে যেসব প্রভাবশালী মন্ত্রী ও উপদেষ্টার জন্য এসকর্ট সুবিধা বহাল রাখা হয়েছে তারা হলেন, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর; স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ; অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী; সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন; পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান; বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ এবং মন্ত্রী পদমর্যাদার পরিকল্পনা উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর।
ঠিক কী ধরণের নিরাপত্তা মূল্যায়নের ভিত্তিতে এই সাতজনকে বেছে নেওয়া হয়েছে, তা স্পষ্ট না করলেও একাধিক পুলিশ কর্মকর্তা জানান, মাঠপর্যায়ের কাজের সার্বিক প্রয়োজন বিবেচনা করেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
ডিএমপির প্রটেকশন বিভাগ থেকে জানা গেছে, এসকর্টের প্রতিটি গাড়িতে পাঁচ সদস্যের একটি করে পুলিশ দল থাকত। নতুন এই সিদ্ধান্তের ফলে প্রায় ৯০ জন পুলিশ সদস্যকে মন্ত্রীদের প্রটোকল ডিউটি থেকে সরিয়ে মূল ধারার পুলিশিং কাজে যুক্ত করা হয়েছে। এতে আগে ব্যবহৃত ২৪টি প্রটোকল গাড়ি কমে এখন মাত্র সাতটিতে নেমে এসেছে, যা ঢাকার রাজপথে ট্রাফিক জট কমাতেও কিছুটা ভূমিকা রাখবে।
হঠাৎ এই প্রটোকল সংকোচনের বিষয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশ সূত্র জানিয়েছে, একক কোনো কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। মূলত সরকারি কাজে জ্বালানি সাশ্রয়, পুলিশের যানবাহনের তীব্র সংকট দূর করা এবং প্রটোকলের বহর ছোট করার যে নীতিগত অবস্থান সরকার নিয়েছে, তারই অংশ এটি। এমনকি প্রধানমন্ত্রী নিজেও তাঁর প্রটোকল বহর থেকে পুলিশের দুটি গাড়ি বাদ দিয়েছেন।
এ বিষয়ে ডিএমপির প্রটেকশন বিভাগের উপকমিশনার মো. শাহরিয়ার আলম জানান, মন্ত্রীদের এসকর্ট কমানোর ফলে জ্বালানি ব্যয় যেমন উল্লেখযোগ্য হারে কমবে, তেমনই পুলিশের ওপর থাকা অতিরিক্ত জনবল ও গাড়ির চাপও অনেকটা হালকা হবে। সরিয়ে নেওয়া গাড়ি ও পুলিশ সদস্যদের এখন নিয়মিত আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে সক্রিয়ভাবে ব্যবহার করা সম্ভব হবে।