সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায়ের আলোকে অবৈধ ডেন্টাল প্র্যাকটিস বন্ধ এবং বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিল (বিএমডিসি) আইন, ২০১০-এর কঠোর বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে ডক্টরস মুভমেন্ট ফর জাস্টিস (ডিএমজে)। সংগঠনটির দাবি, বিএমডিসিতে নিবন্ধিত ডেন্টাল সার্জন ছাড়া অন্য কারও ক্লিনিক্যাল ডেন্টাল চিকিৎসা পরিচালনার আইনগত অধিকার নেই। একই সঙ্গে দেশের প্রতিটি জেলা ও উপজেলা হাসপাতালে পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল সেন্টার স্থাপন এবং পর্যাপ্তসংখ্যক বিডিএস ডেন্টাল সার্জন নিয়োগের আহ্বান জানানো হয়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের মাওলানা মোহাম্মদ আকরাম খাঁ হলে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি তুলে ধরা হয়। পরে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করে সংগঠনটি।
সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতারা জানান, গত ২৪ জুন বাংলাদেশ সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগ সিভিল আপিল নং-৬০ অব ২০১৭ মামলায় রায় দিয়ে পূর্ববর্তী হাইকোর্ট বিভাগের রিট পিটিশনের রায় বাতিল করেছেন। এর ফলে আইনগতভাবে বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়েছে যে, ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের ডেন্টাল সার্জনের মতো স্বাধীনভাবে ক্লিনিক্যাল ডেন্টাল চিকিৎসা পরিচালনার কোনো আইনগত অধিকার নেই।
তারা জানান, বিএমডিসি আইন, ২০১০-এর ২২, ২৮ ও ২৯ ধারায় নিবন্ধিত ডেন্টাল সার্জন ছাড়া অন্য কেউ ডেন্টিস্ট বা ডেন্টাল সার্জন পরিচয়ে চিকিৎসা প্রদান, নিজেকে সে পরিচয়ে উপস্থাপন কিংবা ডেন্টাল প্র্যাকটিস পরিচালনা করতে পারেন না। আইন অনুযায়ী এ ধরনের কার্যক্রম দণ্ডনীয় অপরাধ।
সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়, ডেন্টাল টেকনোলজিস্টদের শিক্ষা ও পেশাগত দায়িত্ব মূলত ডেন্টাল ল্যাবভিত্তিক প্রযুক্তিগত কাজের মধ্যে সীমাবদ্ধ। তারা নিবন্ধিত ডেন্টাল সার্জনের নির্দেশনা অনুযায়ী ডেন্টাল ক্রাউন, ব্রিজ, অর্থোডন্টিক অ্যাপ্লায়েন্স ও অন্যান্য ডেন্টাল প্রস্থেসিস তৈরি করতে পারেন। তবে রোগ নির্ণয়, প্রেসক্রিপশন প্রদান, দাঁত উত্তোলন, স্কেলিং, ফিলিং, রুট ক্যানেল চিকিৎসাসহ কোনো ক্লিনিক্যাল চিকিৎসা বা স্বাধীনভাবে ডেন্টাল চেম্বার পরিচালনার আইনগত এখতিয়ার তাদের নেই।
বক্তারা অভিযোগ করেন, দেশের বিভিন্ন স্থানে কিছু ব্যক্তি নিজেদের ডেন্টিস্ট বা ডেন্টাল সার্জন পরিচয়ে অবৈধভাবে ডেন্টাল চেম্বার পরিচালনা করছেন এবং ক্লিনিক্যাল চিকিৎসাসেবা দিচ্ছেন। পাশাপাশি বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে সাধারণ মানুষকে বিভ্রান্ত করা হচ্ছে, যা জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ এবং আইনের শাসনের পরিপন্থী।
এ পরিস্থিতিতে সরকারের কাছে দুই দফা দাবি জানায় সংগঠনটি। প্রথম দাবিতে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের রায় দ্রুত বাস্তবায়ন এবং বিএমডিসি আইন, ২০১০ অনুযায়ী সারা দেশে অবৈধ ডেন্টাল চেম্বার ও বেআইনি ডেন্টাল প্র্যাকটিস বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় এবং বিএমডিসির পরিপত্র জারি, সংশ্লিষ্ট প্রশাসনকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান, নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, নিবন্ধিত ডেন্টাল সার্জনের কাছ থেকে চিকিৎসা গ্রহণে জনসচেতনতা বৃদ্ধি এবং ডেন্টাল চেম্বার স্থাপনে সুনির্দিষ্ট নীতিমালা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়।
দ্বিতীয় দাবিতে দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালে একটি করে পূর্ণাঙ্গ ডেন্টাল সেন্টার প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানানো হয়। এসব কেন্দ্রে ন্যূনতম পাঁচজন বিডিএস ডেন্টাল সার্জন, বিভিন্ন বিশেষায়িত শাখার অন্তত পাঁচজন কনসালটেন্ট ডেন্টাল সার্জন, প্রয়োজনীয় জনবল, আধুনিক যন্ত্রপাতি ও অবকাঠামো নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
বক্তারা জানান, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের যথাযথ বাস্তবায়ন, বিএমডিসি আইনের কার্যকর প্রয়োগ এবং সরকারি ডেন্টাল সেবার সম্প্রসারণের মাধ্যমে জনস্বাস্থ্য সুরক্ষিত হবে, আইনের শাসন প্রতিষ্ঠিত হবে এবং দেশের মানুষ নিরাপদ ও মানসম্মত দন্তচিকিৎসা সেবা পাবেন।
সংবাদ সম্মেলন শেষে জাতীয় প্রেসক্লাবের সামনে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন ডিএমজে–বিডিএস উইংয়ের নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা অবৈধ ডেন্টাল চেম্বার বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং লিখিত দাবিপত্র তুলে ধরেন। মানববন্ধনে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন মেডিকেল প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা উপস্থিত ছিলেন।