কুষ্টিয়ার মিরপুরে নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আফরোজ শাহীন খসরুকে ফুলের তোড়া দিয়ে বরণ করেছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আবদুল গফুর।
মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) সকালে ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে তাকে শুভেচ্ছা জানান তিনি। পরে এ সংক্রান্ত ছবি ও বক্তব্য নিজের ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করলে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। আবদুল গফুর কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা) আসনের জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য।
সকাল ১০টা ১৬ মিনিটে নিজের ফেসবুক পোস্টে সংসদ সদস্য লেখেন, মিরপুর উপজেলাবাসীর পক্ষ থেকে নবনিযুক্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজ শাহীন খসরুকে ফুলেল শুভেচ্ছা ও আন্তরিক অভিনন্দনের মাধ্যমে বরণ করা হয়েছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, সৌহার্দ্যপূর্ণ এ সাক্ষাতে উপজেলার সার্বিক উন্নয়ন, জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ড এবং প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিদের সমন্বয়ের মাধ্যমে জনগণের কল্যাণে একযোগে কাজ করার প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি ইউএনওর সফল কর্মজীবন, সুস্বাস্থ্য ও উত্তরোত্তর সাফল্য কামনা করেন তিনি।
সংসদ সদস্যের দেওয়া ফুলের তোড়ায় লেখা ছিল, ‘মিরপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব আফরোজ শাহীন খসরু মহোদয়কে শুভেচ্ছা ও স্বাগতম।’ নিচে উল্লেখ ছিল, ‘মো. আবদুল গফুর, সংসদ সদস্য, কুষ্টিয়া-২ (মিরপুর-ভেড়ামারা)।’
ফেসবুক পোস্টে আরও জানানো হয়, এ সময় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত মিরপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী অধ্যাপক জোমারত আলী, উপজেলা জামায়াতের আমির রেজাউল করিম, পৌর মেয়র পদপ্রার্থী এবং উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান পদপ্রার্থী মাওলানা ওমর ফারুকসহ দলীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে সংসদ সদস্য আবদুল গফুরের মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
সংসদ সদস্যের ইউএনওকে ফুল দিয়ে বরণ করার ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর রাষ্ট্রীয় পদমর্যাদা ক্রম (ওয়ারেন্ট অব প্রিসিডেন্স) এবং প্রশাসনিক নিরপেক্ষতা নিয়ে বিভিন্ন মহলে আলোচনা শুরু হয়। পোস্টের মন্তব্যে একজন লেখেন, ‘এমপি ও ইউএনওর পদমর্যাদা সম্পর্কে জানা দরকার। একজন এমপি কীভাবে ইউএনওকে সংবর্ধনা দিতে পারেন?’ আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘এমপি ইউএনওকে বরণ করলেন, নাকি ইউএনও এমপিকে? প্রটোকল অনুযায়ী কে কাকে বরণ করা উচিত?’
এ বিষয়ে সচেতন নাগরিক কমিটি (সনাক)-এর সদস্য মিজানুর রহমান বলেন, একজন সংসদ সদস্য দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ইউএনওর কার্যালয়ে গিয়ে ফুল দেওয়ার ঘটনায় সরকারি কর্মকর্তার ওপর রাজনৈতিক প্রভাব বা অপ্রকাশিত চাপের বার্তা যেতে পারে। এতে প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়েও প্রশ্ন উঠতে পারে বলে তিনি মন্তব্য করেন।