খুলনায় কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৩২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজের দামও প্রতি কেজিতে ১৫-২০ টাকা বেড়ে বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়। বৃষ্টির পানি জমে মরিচ গাছ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় দাম কাঁচা মরিচের বেড়েছে।
মহানগরের কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা গেছে, কাঁচা মরিচ প্রতি কেজি ৩২০, পেঁয়াজ ৫৫-৬০ টাকায়। গত ১৫ দিন আগেও কাঁচা মরিচ ১৬০-২০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আর পেঁয়াজ প্রতি কেজি ৩৫-৪০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
রূপসা বাজারের ব্যবসায়ী আলামিন বলেন, ‘‘২৫০ গ্রাম কাঁচা মরিচ ৮০ টাকা দরে বিক্রি করছি। গত বুধবারও ২৫০ গ্রাম ৭০ টকায় বিক্রি করেছি।’’
বড় বাজারের ব্যবসায় আব্দুর রহিম বলেন, ‘‘গত এক সপ্তাহ ধরে এক নাগাড়ে হালকা ভারী বৃষ্টি চলছে। বৃষ্টিতে মরিচ গাছের গোড়া পঁচে যায়। ফলন পাওয়া যায় না। তাই চাহিদার তুলনায় সরবরাহ বেশি না থাকায় পণ্যটির দাম বেড়েছে।’’
মিস্ত্রিপাড়ার ব্যবসায়ী মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘‘অতিবৃষ্টির কারণে মরিচ গাছ মরে গেছে। ডুমুরিয়া ও শরাফপুর গিয়ে সেখানে কাঁচামরিচ পাওয়া যায়নি। তাছাড়া খুলনার ট্রাক টার্মিনালের পাইকারি কাঁচা বাজারে গিয়েও পণ্যটি পাওয়া যায়নি। প্রয়োজনের তুলনায় কম পাওয়া যাচ্ছে।’’
খুলনার বড় বাজারের ব্যবসায়ী আব্দুল্লাহ বাণিজ্য ভাণ্ডারের মালিক কামরুল ইসলাম বলেন, ‘‘চাহিদার তুলনায় পেঁয়াজের আমদানি খুবই কম। বড় বাজার ও সোনাডাঙ্গা ট্রাক টার্মিনাল কাঁচা বাজারে ফরিদপুর, শৈলকূপা, কুষ্টিয়া ও মাগুরার মোকাম থেকে এ পণ্যটি আমদানি করা হয়। এসব মোকামগুলোতে পেঁয়াজের সংকট থাকায় ব্যাপারীদের সেখান থেকে বেশি দামে কিনে এখানে তা বিক্রি করতে হচ্ছে।’’
সোনাডাঙ্গা ট্রাক টার্মিনালের ব্যবসায়ী ও মোরেলগঞ্জ বাণিজ্য ভাণ্ডারের কর্মকর্তা আব্দুল মালেক বলেন, ‘‘গত কয়েকদিনের টানা বর্ষণে পেঁয়াজ চাষিরা ঘর থেকে পণ্যটি বের করতে পারেনি। তাছাড়া বৃষ্টির মৌসুমে কৃষকরা পাট চাষের দিকে মুখাপেক্ষী হচ্ছেন। যে কারণে.মোকামগুলোতে আমদানি কম হওয়া পণ্যটির দাম বেড়েছে।’’
বড় বাজারের খুচরা ব্যবসায়ী গোবিন্দা সাহা বলেন, ‘‘গত ১০ দিন ধরে এ পণ্যটি ৫০ টাকায় বিক্রি করছেন তিনি। বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক পেঁয়াজ পেচে নষ্ট হয়ে গেছে।’’ তাছাড়া আড়তগুলোতে দাম বেশি হওয়ায় তাকে বেশি দরে বিক্রি করতে হচ্ছে বলে তিনি জানান।