রংপুরের একমাত্র সিনেমা হলটিও বন্ধ হয়ে গেলো

রংপুরের প্রায় পাঁচ দশকের ঐতিহ্যবাহী সিনেমা হল শাপলা টকিজ বন্ধ করে দেওয়া হলো। এ ঘটনা জানাজানি হওয়ায় সাংস্কৃতিক পরিমণ্ডলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে কোনো পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই গুটিয়ে নেওয়া হলো হলটির সব কার্যক্রম।

এর আগে, শুক্রবার (৩১ জুলাই) গভীর রাতে ট্রাকে করে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে হলটির আসবাবপত্র ও প্রদর্শন সরঞ্জাম।

জানা গেছে, ১৯৭৮ সালে নগরীর শাপলা চত্বর এলাকায় যাত্রা শুরু করে শাপলা টকিজ নামে সিনেমা হল। দীর্ঘ চার দশকেরও বেশি সময় ধরে এটি উত্তরাঞ্চলের অন্যতম জনপ্রিয় প্রেক্ষাগৃহ হিসেবে পরিচিত ছিল। সময়ের পরিবর্তনের সঙ্গে দর্শক কিছুটা কমলেও কার্যক্রম চলছিল বেশ ভালোভাবে। দর্শকপ্রিয় সিনেমাগুলো দেখার জন্য দর্শকদের উপচেপড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। তা ছাড়া বিভাগীয় নগরী রংপুরে একে একে ৫টি সিনেমা হল অনেক আগেই বন্ধ হয়ে যাওয়ায় শাপলা টকিজ ছিল সাধারণ মানুষের বিনোদনের একমাত্র সিনেমা হল।

তবে সম্প্রতি হলটিকে ঘিরে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের জের ধরে কোনো ধরনের পূর্ব ঘোষণা ছাড়াই শনিবার বিকেল থেকে গুটিয়ে নেওয়া হলো হলটির সব কার্যক্রম। এ ঘটনা জানাজানি হলে সাধারণ মানুষের মাঝে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। অনেকেই ভিড় করেন সিনেমা হলের প্রধান ফটকের সামনে।

শাপলা টকিজের মালিক মো. রিন্টু জানান, হলটি বছরভিত্তিক লিজ দিয়েছিলাম। সম্প্রতি সেখানে অনৈতিক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের পর নানা বিতর্কের সৃষ্টি হলে হলটি পরিচালনা বন্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয় এবং ভবন ছেড়ে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। শনিবার সব মালামাল নিয়ে গেছে তারা। আমরা সিনেমা হল চালাতে ইচ্ছুক নই। অন্য কোনো ব্যাবসা করবো বলে ভাবছি।

এদিকে, ক্ষোভ প্রকাশ করে সাংস্কৃতিক কর্মী জহির আলম নয়ন বলেন, “ঐতিহ্য ধ্বংস না করে আধুনিক ও সুশৃঙ্খল ব্যবস্থাপনায় সিনেমা হলটি চালু রাখা উচিত।”

অপরদিকে সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সঙ্গীতশিল্পী রেজেকা সুলতানা ফেন্সি বলেন,  “ঠুনকো কারণে রংপুরের একমাত্র সিনেমা হল বন্ধ করে দেওয়া ঠিক হয়নি। কোনো অভিযোগ থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া যেত। চিরতরে বন্ধ করে দেওয়া ঠিক হয়নি। পুনরায় হলটি চালু করার দাবি করছি।”