সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির আওতায় বয়স্ক ভাতা, বিধবা ও স্বামী নিগৃহীতা নারী ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা এবং প্রতিবন্ধী শিক্ষার্থীদের শিক্ষা উপবৃত্তির নতুন আবেদন গ্রহণ শুরু হয়েছে। ১ আগস্ট থেকে শুরু হওয়া এই আবেদন প্রক্রিয়া চলবে আগামী ৩১ আগস্ট ২০২৬ পর্যন্ত।
সমাজসেবা অধিদপ্তরের সামাজিক নিরাপত্তা অধিশাখা থেকে প্রেরিত নির্দেশনা অনুযায়ী, ঢাকা, চট্টগ্রাম, রাজশাহী, খুলনা, সিলেট, রংপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহ বিভাগের জেলা ও বিভাগীয় কার্যালয়গুলোকে আবেদন পরিচালনা ও যাচাই-বাছাইয়ের নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।
নির্দেশনা অনুযায়ী, চলতি ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের নির্ধারিত বাজেটের আলোকে নতুন উপকারভোগী যুক্ত করতে এসব ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির অনলাইন আবেদন গ্রহণ করা হচ্ছে। এর পাশাপাশি অনগ্রসর জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন কর্মসূচির আওতায় হিজড়া, বেদে, অনগ্রসর সমাজ এবং চা-শ্রমিকদের ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তির আবেদনও একই প্ল্যাটফর্মে করা যাবে।
আবেদন করার নিয়ম ও প্রয়োজনীয় শর্তাবলি:
সুবিধাভোগী হতে ইচ্ছুক ব্যক্তিরা সরাসরি সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্ধারিত ওয়েবসাইট https://dss.bhata.gov.bd/online-application থেকে আবেদন জমা দিতে পারবেন। আবেদনকারীকে অবশ্যই নিজ নিজ স্থায়ী ঠিকানার তথ্য ব্যবহার করে ফরম পূরণ করতে হবে।
প্রতিবন্ধী ভাতার ক্ষেত্রে আবেদনকারীর অবশ্যই শারীরিক বা মানসিক প্রতিবন্ধিতা যাচাইকৃত সুবর্ণ নাগরিক কার্ড থাকতে হবে। এছাড়া জাতীয় পরিচয়পত্র দিয়ে নিবন্ধিত একটি সচল মোবাইল নম্বর কিংবা নিজস্ব ব্যাংক হিসাবের তথ্য প্রদান করা বাধ্যতামূলক। ব্যাংক হিসাব ব্যবহার করলেও যোগাযোগের জন্য একটি সক্রিয় মোবাইল নম্বর দিতে হবে।
আবেদনের অযোগ্যতা ও বিশেষ দ্রষ্টব্য:
সমাজসেবা অধিদপ্তর স্পষ্ট করেছে যে, যারা ইতোমধ্যেই অন্য কোনো সরকারি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি থেকে নিয়মিত ভাতা বা সুবিধা পাচ্ছেন, তারা এই কর্মসূচির জন্য যোগ্য হিসেবে বিবেচিত হবেন না।
এছাড়া, যারা ইতিপূর্বে অনলাইনে আবেদন করে অপেক্ষমাণ তালিকায় রয়েছেন, তাদের নতুন করে পুনরায় আবেদন করার প্রয়োজন নেই।
নতুন প্রাপ্ত আবেদন এবং পূর্বের অপেক্ষমাণ তালিকা সমন্বিতভাবে পর্যালোচনা শেষে নীতিমালার আলোকে ভাতাভোগীদের চূড়ান্ত তালিকা অনুমোদন করা হবে। চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত উপকারভোগীরা চলতি ২০২৬ সালের ১ জুলাই থেকেই তাদের ভাতা ও শিক্ষা উপবৃত্তি পাওয়ার সুবিধা ভোগ করবেন।