চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবেশের সময় কর্ণফুলী নদীর মোহনায় আটকেপড়া জাহাজ ‘এমভি সিএনসি ইউরেনাস’কে উদ্ধার করে সরানো হয়েছে।
সোমবার (৩ আগস্ট) গভীর রাতে জাহাজটিকে সরিয়ে বি অ্যাঙ্করেজে নিরাপদে নোঙর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্দর সচিব সৈয়দ রেফায়েত হামিম।
মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সকালে তিনি বলেন, “সমন্বিত প্রচেষ্টায় অভিযান চালিয়ে আটকেপড়া জাহাজটিকে সফলভাবে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মুক্ত করার পর জাহাজটিকে নিরাপদে ‘বি’ অ্যাঙ্করেজে নোঙর করানো হয়েছে।ফলে দেশের প্রধান সামুদ্রিক বন্দরের কার্যক্রম কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই স্বাভাবিক রয়েছে।”
মাল্টার পতাকাবাহী জাহাজটি গত সোমবার দুপুর সোয়া ২টার দিকে বন্দরের অদূরে কর্ণফুলী মোহনার কাছে আটকা পড়েছিল।
বন্দরের কর্মকর্তারা জানান, ১৭০ মিটার দীর্ঘ কনটেইনার জাহাজটিতে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা গিয়েছিল। স্টিয়ারিং বিকল হওয়ায় সেটি দুই নম্বর বয়ার সঙ্গে ধাক্কা খায়। এরপর জাহাজটি কর্ণফুলীর মোহনা সংলগ্ন প্রতিরক্ষা দেয়ালে আটকে যায়।
বন্দরে জাহাজ চলাচলের মূল পথে কোনো জাহাজ ডুবে গেলে বন্দর অচল হয়ে যাওয়ার শঙ্কা দেখা দেয়। এ কারণে জাহাজটি আটকে যাওয়ার পর নিরাপদে সরিয়ে নিতে তাৎক্ষণিকভাবে কাজ শুরু করে বন্দর কর্তৃপক্ষ। জাহাজটি নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার ফলে বন্দরে জাহাজ চলাচলের পথ বিপদমুক্ত হয়েছে।
চীনের শিকোউ বন্দর থেকে আসা ১২৮২ টিইইউএস (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের কনটেইনারকে একক ধরে) কনটেইনার নিয়ে জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরে আসছিল। জাহাজে মোট ২৪ জন নাবিক আছেন।
জাহাজটি উদ্ধারে চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের টাগবোট কান্ডারী-২, কান্ডারী-৪, কান্ডারী-৬ ও কান্ডারী-১১, বাংলাদেশ নৌবাহিনীর টাগবোট শিবসা, টানেল টাগবোট এবং বাংলাদেশ কোস্ট গার্ডের টাগবোট প্রমত্ত মোতায়েন করা হয়। প্রায় ১২ ঘণ্টা পর জাহাজটি উদ্ধার করে সাগরে নেওয়া হয়।
বন্দরের নেভিগেশন চ্যানেলের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নৌবাহিনী এবং বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের সদস্যরাও এ অভিযানে যোগ দেন।
বন্দর সচিব রেফায়েত হামিম বলেন, “পুরো উদ্ধার অভিযান চলাকালে বন্দরের চ্যানেলটি সম্পূর্ণ নিরাপদ ও নৌ চলাচলের উপযোগী ছিল। এ ঘটনায় কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।”