স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর ভিডিও ধারণ, চাঁদা দাবি

নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলায় অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণ, ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় চার যুবকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় করা মামলার দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। 

সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেলে এই তথ্য নিশ্চিত করেন পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) টি এম ফরিদুল আলম। তিনি জানান, সকালে উপজেলা থেকে এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করা হয় তাদের। 

গ্রেপ্তাররা হলো- কান্দাপাড়া এলাকার জজ মিয়ার ছেলে দিপু (১৮) ও রফিকুল ইসলামের ছেলে রাকিব হাসান রুবেল (২০)।

রবিবার রাতে ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে রায়পুরা থানায় লিখিত অভিযোগ করা হয়। এর আগে, গত শনিবার (১ আগস্ট) দিবাগত রাতে উপজেলার চরমরজাল কান্দাপাড়া এলাকায় এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। 

পুলিশ ও ভুক্তভোগী পরিবার সূত্রে জানা যায়, স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির ওই ছাত্রীর সঙ্গে এক কিশোরের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। শনিবার (১ আগস্ট) সন্ধ্যায় প্রেমিকের সঙ্গে দেখা করতে গেলে কয়েকজন তাদের আটকিয়ে মারধর করে। একপর্যায়ে প্রেমিক পালিয়ে গেলেও শিক্ষার্থীকে ধর্ষণ করে পালিয়ে যায় তারা। পরে ওই ভুক্তভোগী ছাত্রী রাত প্রায় ২টার দিকে বাড়ি ফিরে মায়ের কাছে ঘটনার বিস্তারিত জানায়।

এ ঘটনার পরদিন রবিবার (২ আগস্ট) ভুক্তভোগীর মা রায়পুরা থানায় ধর্ষণ, চাঁদাবাজিসহ বিভিন্ন অভিযোগে পাচঁজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন। সোমবার রায়পুরা থানা পুলিশের তত্ত্বাবধানে ভুক্তভোগী ওই তরুণীকে শারীরিক পরীক্ষার জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়।

মামলার অভিযোগে বলা হয়, আসামি দিপু ও রাকিব হাসান রুবেল ওই স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করে। পরে আরও দুই অভিযুক্ত ঘটনাস্থলে এলে তারা পালিয়ে যায়। এ সময় অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে ১০ হাজার টাকা চাঁদা দাবি করে।

রায়পুরা থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) টি এম ফরিদুল আলম বলেন, "সোমবার সকালে এ মামলার দুই আসামি দিপু ও রাকিব হাসান রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে দুপুরে তাদের আদালতে পাঠানো হয়েছে। মামলার অপর আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।"