গৃহকর্মী কিশোরীকে ধর্ষণ, ৬ মাসের গর্ভের সন্তান জোর করে নষ্টের অভিযোগ

হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলায় এক কিশোরী গৃহকর্মীকে ধর্ষণ পরবর্তীতে জোরপূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগে মামলা দায়ের হয়েছে। ভুক্তভোগী কিশোরীর (১৬) পক্ষ থেকে গৃহকর্তার ছেলে শামীম মিয়াকে (২৫) আসামি করে হবিগঞ্জ নারী শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল- মামলাটি করা হয়। তবে মামলার পরও ন্যায়বিচার না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন ভুক্তভোগী তার পরিবার, পাশাপাশি মামলা প্রত্যাহারের জন্য অভিযুক্তের পরিবারের কাছ থেকে হুমকিরও অভিযোগ উঠেছে।

অভিযুক্ত শামীম মিয়া উপজেলার চুরতা গ্রামের বাসিন্দা। সম্প্রতি ভুক্তভোগী পরিবার হবিগঞ্জে সংবাদ সম্মেলন করে বিচার দাবি করেছে।

মামলার বিবরণ অনুযায়ী, কিশোরীর বাবা ভিক্ষাবৃত্তি করে সংসার চালাতেন। অভাবের কারণে মেয়েকে একই গ্রামের ছিদ্দিক আলীর বাড়িতে গৃহকর্মী হিসেবে পাঠানো হয়। সেখানে দীর্ঘদিন কাজ করার সময় গৃহকর্তার ছেলে শামীম কিশোরীকে কুপ্রস্তাব দিতে থাকেন বলে অভিযোগে বলা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, ২০২৫ সালের ২৩ এপ্রিল একটি কক্ষ পরিষ্কারের সময় শামীম তাকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন। সামাজিক লজ্জা ভয়ে তখন বিষয়টি প্রকাশ করতে পারেননি বলে দাবি করা হয়েছে, পরে তিনি মাসের গর্ভবতী হয়ে পড়েন।

অভিযোগ অনুযায়ী, একই বছরের ২৩ ডিসেম্বর অভিযুক্ত জোর করে ওষুধ খাইয়ে গর্ভপাত ঘটান এবং ভ্রূণ খোয়াই নদীতে ফেলে দেন। এতে শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ওই কিশোরীকে হবিগঞ্জ জেলা সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়, যেখানে চিকিৎসা নথিতে অসম্পূর্ণ গর্ভপাতজনিত জটিলতার উল্লেখ রয়েছে বলে মামলায় দাবি করা হয়েছে।

এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, প্রমাণ নষ্ট ঘটনা গোপন রাখতে প্রভাবশালী ওই পরিবার ভুক্তভোগী তার পরিবারকে ভয়ভীতি দেখিয়েছে। থানায় মামলা করতে গেলে পুলিশ আদালতে যাওয়ার পরামর্শ দেয় বলেও অভিযোগ। পরবর্তীতে নারী শিশু নির্যাতন দমন আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় মামলাটি দায়ের করা হয়, যা তদন্তের জন্য পিবিআইকে পাঠানো হয়েছে।

অভিযুক্ত শামীমের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা পিবিআইয়ের ওসি মৃণাল দেবনাথ জানান, শিগগিরই আদালতে অনুসন্ধান প্রতিবেদন দাখিল করা হবে।