কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পদ্মা নদীর পাড় ধসে পানির স্রোতে তলিয়ে গেছে দুই শিশু। পরে স্থানীয়দের তৎপরতায় এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হলেও অপর শিশুটি নিখোঁজ রয়েছে।
বুধবার (৫ আগস্ট) দুপুট ১২টার দিকে উপজেলার মরিচা ইউনিয়নের ভুরকাপাড়া গ্রামে এই ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ শিশুর নাম মোছাঃ নূরিয়া খাতুন (৮)। সে ভুরকাপাড়া গ্রামের মোঃ আশিক শেখের মেয়ে।
স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, পদ্মা নদীর পাড়ে দাঁড়িয়ে ছিল দুই শিশু। এ সময় হঠাৎ নদীর পাড় ধসে পড়লে মুহূর্তের মধ্যেই তারা নদীতে পড়ে যায়। তাৎক্ষণিকভাবে আশপাশের বাসিন্দারা এগিয়ে এসে জামিলা খাতুন (৭) নামে এক শিশুকে জীবিত উদ্ধার করেন। জামিলা ভুরকাপাড়া গ্রামের মোঃ ইজাজুল মন্ডলের মেয়ে। তবে ঘটনার পর নদীর তীব্র স্রোতে ভেসে যায় অপর শিশু। সে একই এলাকার মোঃ আশিক শেখের মেয়ে।
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী স্থানীয় কৃষক এরশাদ আলী বলেন, “আমি জমিতে কাজ করছিলাম। হঠাৎ দেখতে পায় নদীর পাড়ের একটি বড় অংশ ধসে নিচে পড়ল এবং সঙ্গে সঙ্গে শিশুদের চিৎকার শুনি। আমার চিৎকারে স্থানীয় লোকজন ছুটে আছে।”
জামিলাকে নদী থেকে তুলে আনা স্থানীয় যুবক লালন শেখ বলেন, “আমরা পানিতে নেমেই জামিলাকে হাতের কাছে পেয়ে দ্রুত টেনে তুলি। কিন্তু নূরিয়া স্রোতের টানে গভীর পানিতে তলিয়ে যায়। আমরা অনেক দূর সাঁতরে গিয়েও তাকে ধরতে পারিনি।”
এদিকে খবর পেয়ে বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস ও দৌলতপুর থানা পুলিশের একটি টিম ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
ভেড়ামারা ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম জানান, খবর পাওয়া মাত্রই আমাদের টিম ভুরকাপাড়া এলাকায় পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করেছে। নদীতে পানির গভীরতা ও প্রবল স্রোতের কারণে উদ্ধার কাজ ব্যহত হচ্ছে। খুলনা থেকে ডুবুরি দলকে খবর দেওয়া হয়েছে, তারা এসে অভিযানে যোগ দেবেন।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান জানান, পুলিশ ঘটনাস্থলে অবস্থান করছে এবং ফায়ার সার্ভিসকে সহায়তার পাশাপাশি নিখোঁজ শিশুটিকে উদ্ধারে সব ধরনের চেষ্টা ও নজরদারি চালানো হচ্ছে।