ফরিদপুরে আবার বাড়ছে হামের উপসর্গ, ২৪ ঘণ্টায় হাসপাতালে ৪০ শিশু

ফরিদপুরে আবারও বাড়তে শুরু করেছে হামের উপসর্গ। গত ২৪ ঘণ্টায় জেলার বিভিন্ন হাসপাতালে নতুন করে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪০ শিশু ভর্তি হয়েছে। এ নিয়ে বর্তমানে জেলার হাসপাতালগুলোতে হামের উপসর্গ নিয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছে ৯৯ শিশু।

হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গত তিন দিনে ফরিদপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ১১০ শিশু ভর্তি হয়েছে।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন ডাক্তার মাহমুদুল হাসান বলছেন, গত এক মাসে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যুর কোনো খবর পাওয়া যায়নি। একই সময়ে আক্রান্তের হারও আগের তুলনায় অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে ছিল। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে নতুন করে শিশুদের মধ্যে হামের উপসর্গ দেখা দেওয়ায় বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে স্বাস্থ্য বিভাগ।

ফরিদপুর সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, জেলায় এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৪,০৪৫ জন আক্রান্ত হয়েছে। এদের মধ্যে মারা গেছে ২১ শিশু। মৃতদের অধিকাংশের বয়স এক বছরের নিচে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

ফরিদপুরের শিশু বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ডাক্তার আব্দুল্লাহ হিস সায়াদ, শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে দানা বা ফুঁসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন বলে জানান। এক বছরের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের বাড়তি সতর্ক থাকার পরামর্শও দেন তিনি।

ফরিদপুরের সিভিল সার্জন আরো বলেন, “গত চার-পাঁচ দিনে হামের উপসর্গ নিয়ে শিশু ভর্তির সংখ্যা কিছুটা বেড়েছে। পরিস্থিতি স্বাস্থ্য বিভাগের নজরদারিতে রয়েছে।”

শিশুদের মধ্যে জ্বর, সর্দি-কাশি, চোখ লাল হওয়া ও শরীরে র‍্যাশ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে আসতেও জোর দেন তিনি। তার ভাষ্য, সময়মতো চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হলে জটিলতা অনেকটাই কমানো সম্ভব।