দিনাজপুরে শ্রমিক দল নেতা মজিবর রহমানকে পুলিশী হেফাজতে নির্যাতনের অভিযোগ তুলে সড়ক অবরোধ করেছেন পরিবহন শ্রমিকরা। মজিবর রহমান জেলা কৃষক দলের সদস্যসচিব এবং স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক নেতা। একইসঙ্গে তিনি শ্রমিক দলেরও নেতা।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) সকাল ১১টা থেকে দিনাজপুরে সড়ক অবরোধ শুরু করেন পরিবহন শ্রমিকরা। এতে মহাসড়ক ও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
বন্ধ হয়ে যায় দিনাজপুরের সঙ্গে ঢাকাসহ বিভিন্ন রুটের দূরপাল্লার বাস চলাচল। এর ফলে ভোগান্তিতে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা।
এছাড়া, সকালে দিনাজপুর-গোবিন্দগঞ্জ মহাসড়কসহ দিনাজপুরের সকল রুটে সড়ক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। একইসঙ্গে দিনাজপুর-বিরল-বোচাগঞ্জ সড়কের কাঞ্চনঘাট এলাকাতেও অবস্থান নেন তারা।
এদিকে, দিনাজপুর-দশমাইল, দিনাজপুর-ঠাকুরগাঁ, দিনাজপুর-রংপুর সডক অবরোধ করেন শ্রমিকরা। এই রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সড়ক অবরোধ অব্যাহত রয়েছে। সকল রুটে বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।
শ্রমিক নেতা মুজিবের মুক্তি, মামলা প্রত্যাহার এবং কোতোয়ালি থানার ওসিকে বদলি করা না হলে অবরোধ চালিয়ে যাওয়ার কথা জানিয়েছেন শ্রমিক নেতৃবৃন্দ।
এর আগে, গত রবিবার (৯ আগস্ট) রাতে সিআইডির এক পুলিশ পরিদর্শকের সঙ্গে বাকবিতণ্ডার পর তাকে থাপ্পড় মারার অভিযোগে জাতীয়তাবাদী কৃষক দলের নেতা মজিবর রহমান মজিবকে গ্রেপ্তার করে জেলহাজতে পাঠায় পুলিশ।
জানা যায়, একটি হত্যা মামলার নথিপত্র সংগ্রহ ও আগের তদন্ত কর্মকর্তার সঙ্গে আলোচনা করতে সিভিল পোশাকে থানায় যান সিআইডি পরিদর্শক নওয়াবুর রহমান। একই সময়ে থানার ওসির সঙ্গে দেখা করতে যান মজিবর রহমান। এসময় সেখানে তাদের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে সিআইডি কর্মকর্তা নওবুরকে থাপ্পড় মারেন শ্রমিক নেতা মজিবুর।
পরে থানায় থাকা পুলিশ সদস্যরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এনে মজিবর রহমানকে আটক করেন। এ ঘটনায় পুলিশ পরিদর্শক নওয়াবুর রহমান বাদী হয়ে মজিবর রহমানসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন।
কোতোয়ালি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নূর নবী জানান, পুলিশ কর্মকর্তার গায়ে হাত দেওয়ার অভিযোগে মজিবর রহমানকে আটক করা হয়। পরে তাকে মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।