হবিগঞ্জের আজমিরীগঞ্জে ফল কিনতে গিয়ে দোকানির মুঠোফোন সেট চুপিসারে নিজের পকেটে ভরে নেন পুলিশের এক উপপরিদর্শক (এসআই)। ফল কিনে দোকান থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি ধরা পড়ে দোকানের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজে।
এ ঘটনার জেরে সোমবার (১০ আগষ্ট) এসআই রাসেল মিয়াকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ জেলা পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।
জানা যায়, শনিবার রাত ৮টা ৪৯ মিনিটে এসআই রাসেল মিয়া আজমিরীগঞ্জ বাজারের ব্যবসায়ী রাজীব আহমেদের দোকানে ফল কিনতে যান। তিনি চলে যাওয়ার পর রাজীব আহমেদ তার মুঠোফোন খুঁজে না পেয়ে দোকানের সিসিটিভি ফুটেজ পরীক্ষা করেন। ফুটেজ দেখে তিনি নিশ্চিত হন, এসআই রাসেলই ফোনটি নিয়ে গেছেন।
পরে রাজীব আহমেদ এসআই রাসেলের কাছে ফোন ফেরত চাইলে প্রথমে তিনি তা অস্বীকার করেন। সিসিটিভি ফুটেজের প্রসঙ্গ তোলার পর তিনি গভীর রাতে দোকানির সঙ্গে দেখা করেন এবং জানান যে ফোনটি হারিয়ে ফেলেছেন। এরপর ফোনের মূল্য বাবদ তাকে ১৫ হাজার টাকা দেন।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, এসআই রাসেল মিয়া দোকানে ঢুকে পেয়ারা ও লটকন কেনেন এবং কেনাকাটা শেষেও প্রায় পাঁচ মিনিট দোকানে অবস্থান করেন। এ সময় দোকানের টেবিলে রাখা ছিল দোকানির মুঠোফোন। একপর্যায়ে তিনি নিজের হাতে থাকা একটি ফাইল ও লাল রঙের মুঠোফোন দোকানির ফোনের ওপর রাখেন, পরে কথা বলার ছলে দুটি ফোনই একসঙ্গে পকেটে ঢুকিয়ে নেন। এরপর ফলের ব্যাগ হাতে নিয়ে আরও প্রায় এক মিনিট দোকানির সঙ্গে কথা বলে সেখান থেকে চলে যান।
এ বিষয়ে জানতে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও এসআই রাসেল মিয়া ফোন ধরেননি।
সিসিটিভি ফুটেজের ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসে বিষয়টি। এরপর ঘটনার তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় আজমিরীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আকবর হোসেনকে। তার প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই গতকাল এসআই রাসেল মিয়াকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে হবিগঞ্জ পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়।
এ প্রসঙ্গে ওসি আকবর হোসেন বলেন, “ঘটনাটি পুলিশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছে। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করার পর এসআই রাসেল মিয়াকে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে এবং শিগগিরই তার বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা রুজু করা হবে।“