গোপালগঞ্জ শহরে দিনরাত সমানতালে চলছে তীব্র লোডশেডিং। জেলা শহরের বিদ্যুৎ পরিস্থিতি একেবারেই নাজুক হয়ে পড়েছে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১৭ ঘণ্টাই থাকছে না বিদ্যুৎ। প্রচণ্ড গরমে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন ওয়েস্ট জোন পাওয়ার ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির (ওজোপাডিকো) গ্রাহকরা। এমন পরিস্থিতিতে নিজেদের কার্যালয় ও উপকেন্দ্রে ক্ষুব্ধ গ্রাহকদের হামলার শঙ্কা করছে ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষ।
এই আশঙ্কা থেকেই দপ্তরে যে কোনো ধরনের হামলা বা নাশকতা প্রতিরোধ এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের নিরাপত্তার দাবিতে জেলা পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দিয়েছে ওজোপাডিকো কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) ওজোপাডিকো গোপালগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিনের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, ওজোপাডিকোর পাওয়ার হাউজ, গোপালগঞ্জ দপ্তর ক্যাম্পাস এবং চরপাথালিয়ায় অবস্থিত দুটি ৩৩/১১ কেভি উপকেন্দ্রের মাধ্যমে গোপালগঞ্জ পৌরসভা এলাকায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়ে থাকে। কিন্তু বর্তমানে বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হওয়ায় এবং জাতীয় গ্রিড থেকে চাহিদার তুলনায় কম বরাদ্দ পাওয়ায় ঘন ঘন লোডশেডিং করতে হচ্ছে। ফলে স্বাভাবিক বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হচ্ছে এবং গ্রাহকদের মধ্যে অসন্তোষ ও ক্ষোভ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এতে দপ্তর, বৈদ্যুতিক স্থাপনা কিংবা কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত আচরণসহ যে কোনো অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটার শঙ্কা রয়েছে বলে চিঠিতে জানানো হয়।
এ প্রেক্ষাপটে যে কোনো ধরনের নাশকতা এড়াতে ওজোপাডিকো গোপালগঞ্জ দপ্তরের সব স্থাপনা ও উপকেন্দ্রগুলোকে নিয়মিত পুলিশি টহল রুটের আওতায় আনা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির ওপর বিশেষ নজরদারি রাখার অনুরোধ জানানো হয়েছে চিঠিতে।
এ বিষয়ে ওজোপাডিকোর নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মাঈন উদ্দিন বলেন, “আমরা আমাদের দপ্তরসহ সব কর্মকর্তা-কর্মচারীর নিরাপত্তা চেয়ে জেলা পুলিশ সুপার বরাবর চিঠি পাঠিয়েছি। বেশ কিছুদিন ধরে চাহিদার তুলনায় কম বিদ্যুৎ উৎপাদন হওয়ায় শহরে লোডশেডিং হচ্ছে। চাহিদা যেখানে ১৮ মেগাওয়াট, সেখানে আমরা বরাদ্দ পাচ্ছি মাত্র ৯ থেকে ১০ মেগাওয়াট। এ কারণেই ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে এবং গ্রাহকদের ভোগান্তি বাড়ছে। ক্ষুব্ধ গ্রাহকেরা আমাদের অফিস ও উপকেন্দ্রে হামলা চালাতে পারেন এমন আশঙ্কা থেকেই আমরা নিরাপত্তা চেয়ে পুলিশ সুপারের কাছে চিঠি দিয়েছি।”
এ ব্যাপারে জেলা পুলিশ সুপার মো. হাবিবুল্লাহ বলেন, “আমি এখনো চিঠিটি হাতে পাইনি। চিঠি পেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেব।”