চট্টগ্রামে অগ্রণী ব্যাংক থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা উধাও

ভল্টে রাখা টাকার বান্ডিলের ওপরে এক হাজার টাকার নোট রাখা হতো। আর বান্ডিলের ভেতরে থাকত ১০০ টাকার নোট। বাইরে থেকে দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে বান্ডিলের ভেতরে কম মূল্যের নোট রয়েছে। এভাবে টাকার প্রকৃত পরিমাণ গোপন করে ধাপে ধাপে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা সরিয়ে নেওয়া হয়।

চট্টগ্রাম নগরীর অগ্রণী ব্যাংক লালদিঘী পূর্ব কর্পোরেট শাখায় এ ঘটনা ঘটেছে। 

গত সোমবার এ ঘটনায় মামলা করেছে শাখার মহাব্যবস্থাপক মোস্তাক আহমেদ। সেদিনই মামলায় শাখার ক্যাশ ইনচার্জ মো. কামরুল হোসেন ও জাফরুল্লাহ তানভীর নামে আরেক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

কোতোয়ালী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ইকবাল হোসেন বলেন, “ব্যাংক ভল্ট থেকে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগে গত সোমবার থানায় একটি মামলা করা হয়েছে। ব্যাংক কর্তৃপক্ষ তাদের ভল্টের দায়িত্বে থাকা সিনিয়র অফিসার কামরুল হোসেনকে দায়ী করেছেন।পাশাপাশি তারা কামরুলসহ দুজনকে পুলিশে সোপর্দ করেছেন। গত সোমবার তাদের গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।”

মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, কামরুল হোসেন ওই শাখার ক্যাশ ও ভল্টের দায়িত্বে ছিলেন। ৯ আগস্ট নিয়মিত ব্যাংকিং কার্যক্রম ও লেনদেন শেষে নগদ অর্থের হিসাব মেলানো হচ্ছিল। তখনই হিসাবের সঙ্গে ভল্টে থাকা টাকার গরমিল ধরা পড়ে।

পরে রেকর্ডপত্র ও নথি যাচাই করে দেখা যায়, ভল্টে যে পরিমাণ টাকা থাকার কথা, বাস্তবে রয়েছে তার চেয়ে ৪ কোটি ৩৮ লাখ টাকা কম। এ বিষয়ে কামরুল হোসেন সন্তোষজনক জবাব দিতে পারেননি বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।

মামলার এজাহারে কামরুল হোসেনকে জিজ্ঞাসাবাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, ভল্টে নগদ টাকা জমা দেওয়ার সময় ১,০০০ টাকার নোটের বান্ডেলে ১০০ টাকা বা ছোট নোট দিয়ে ভল্টে জমা রেখে মনগড়া হিসাব মিলিয়ে রাখতেন কামরুল। বাইরে থেকে ভল্টে টাকার বান্ডেল দেখা গেলেও সেখানে মূল টাকা নেই।

ভল্টের টাকা কামরুল তার পরিচিত জাফর উল্লাহ তানভীর (২৫) নামে এক ব্যক্তির মাধ্যমে হাটাহাজারী উপজেলায় ‘ইশরাত অ্যাগ্রো’ নামে একটি গরুর খামার চালু করেছেন, যেখানে বিভিন্ন জাতের ৫০-৬০টি গরু আছে।

অগ্রণী ব্যাংক চট্টগ্রামের জেনারেল ম্যানেজার (জিএম) মোস্তাক আহমেদের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, গত বছরের ১ জুন থেকে চলতি বছরের ৯ অগাস্ট পর্যন্ত সময়ের মধ্যে এ ঘটনা ঘটেছে। ভল্টের টাকা সরিয়ে তা ব্যবসায় বিনিয়োগ করেন কামরুল।  

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা মো. ইকবাল হোসেন বলেন, মামলার আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে। জব্দ করা ডিভাইস ও অন্যান্য তথ্য যাচাই করে ঘটনার সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না এবং আত্মসাৎ করা অর্থের কী পরিমাণ উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।