রোহিঙ্গা ইস্যুতে মিয়ানমারের বিবৃতির সঙ্গে একমত নয় বাংলাদেশ

রোহিঙ্গা ইস্যু নিয়ে মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাম্প্রতিক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া বহু উপাত্তই ভুল তথ্যের ওপর ভিত্তি করে তৈরি বলে স্পষ্ট জানিয়েছে বাংলাদেশ। এই ভুল শুধরে নেওয়ার তাগিদ দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় উল্লেখ করেছে, জাতিসংঘ ব্যবস্থার অধীন নিবন্ধিত তথ্যই রোহিঙ্গা জনসংখ্যার সঠিক চিত্র তুলে ধরে।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মিয়ানমার অনুবিভাগের মহাপরিচালক মো. তৌফিক-উর-রহমান বাংলাদেশে নিযুক্ত দেশটির রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সো মো-র সঙ্গে এক বৈঠকে এসব কথা জানান। পরবর্তীতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে আলোচনার বিষয়টি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করা হয়।

উল্লেখ্য, গত শনিবার মিয়ানমারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় দাবি করেছিল, বাংলাদেশ থেকে দেওয়া ৮ লাখ ২৮ হাজার ৮২৪ জন শরণার্থীর তালিকা থেকে তারা ৪ লাখ ২৬ হাজার ৫৪৫ জনের তথ্য যাচাই করেছে এবং ১ লাখ ১৩ হাজারের বেশি মানুষের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে রাখাইন থেকে ১০ লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হওয়ার তথ্য অস্বীকার করে বেশ কিছু রোহিঙ্গাকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে জড়িত বলে দাবি করে দেশটি।

আজকের বৈঠকে তৌফিক-উর-রহমান দ্বিপক্ষীয় চুক্তির ভিত্তিতে প্রত্যাবাসনপ্রত্যাশীদের পরিচয় যাচাইকরণ প্রক্রিয়া দ্রুত করার তাগিদ দেন। বিশেষ করে ২০১৭ সালের পর বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া নতুন রোহিঙ্গা এবং আশ্রয়শিবিরে জন্ম নেওয়া শিশুদের তথ্য দ্রুত অন্তর্ভুক্ত করার অনুরোধ জানান। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, "রোহিঙ্গারা 'বাঙালি' নন, মিয়ানমার কর্তৃপক্ষেরই সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত স্বীকৃত নিজস্ব জাতিগত পরিচয় তাদের রয়েছে।"

বৈঠকে মিয়ানমারের রাষ্ট্রদূত ইউ কিয়াও সো মো বাংলাদেশের এই উদ্বেগ ও পর্যবেক্ষণ তার সরকারের কাছে পৌঁছে দেওয়ার আশ্বাস দেন এবং প্রত্যাবাসন শুরুর লক্ষ্যে যাচাই প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।

পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিজ্ঞপ্তিতে আবারও জোর দিয়ে বলা হয়, কক্সবাজারে অবস্থানরত লাখ লাখ বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গার মর্যাদাপূর্ণ, নিরাপদ ও স্বেচ্ছায় নিজ ভিটেমাটি রাখাইনে ফিরে যাওয়াই এই সংকটের একমাত্র স্থায়ী সমাধান।