এক এলাকায় তিন ঘণ্টার ব্যবধানে দুই তরুণ খুন, খুলনাতে আতঙ্ক

খুলনা নগরের লবণচরা থানার আশিবিঘা এলাকায় কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে গুলিতে দুই তরুণ নিহত হয়েছেন।

বুধবার (১৯ আগষ্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে মঞ্জুরুল ইসলাম (২২) নামের এক তরুণকে গুলি ও ছুরিকাঘাত করা হয়, পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এর প্রায় তিন ঘণ্টা পর, রাত সাড়ে ৯টার দিকে একই এলাকা থেকে নাজমুল (১৮) নামের আরেক তরুণের গুলিবিদ্ধ মরদেহ উদ্ধার করা হয়। তবে তাকে কখন গুলি করা হয়েছিল, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

নিহত মঞ্জুরুল ইসলাম আশিবিঘা এলাকার বাসিন্দা এবং বাবার সঙ্গে রাজমিস্ত্রির সহকারী হিসেবে কাজ করতেন। নাজমুলও একই এলাকার বাসিন্দা। দুটি ঘটনার মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে কি না, তা পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আশিবিঘা এলাকার একটি ফাঁকা মাঠে নিয়মিত ফুটবল খেলা হয়। বুধবার বিকেলে সেখানে খেলা নিয়ে মঞ্জুরুলের সঙ্গে কয়েকজনের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। খেলা শেষে মঞ্জুরুল বন্ধুসহ আশিবিঘা কালভার্টের পাশে বসে থাকার সময় একই ব্যক্তিরা এসে আবার বচসায় জড়ান, এক পর্যায়ে দুর্বৃত্তরা তাকে গুলি ও ছুরিকাঘাত করে। গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের সহকারী পুলিশ কমিশনার (খুলনা জোন) মো. শফিকুল ইসলাম জানান, প্রাথমিকভাবে ফুটবল খেলাকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি ঘটেছে বলে ধারণা করা হলেও প্রকৃত কারণ আরও খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি জানান, আশিবিঘা এলাকায় সাইফি গ্রুপ ও রাজু গ্রুপ নামের দুটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর তৎপরতা ও বিরোধের তথ্য পুলিশের কাছে রয়েছে এবং এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কোনো গোষ্ঠীর সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা যাচাই করা হচ্ছে। ঘটনার সময় মঞ্জুরুলের সঙ্গে থাকা এক বন্ধুকে খুঁজে পেয়ে তার কাছ থেকে বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে বলেও জানান তিনি।

অন্যদিকে নাজমুলের বাবা মনির শেখ জানান, বুধবার বিকেল চারটার দিকে চুল কাটিয়ে বাড়ি ফেরার পথে তিন-চারজন মুখোশধারী যুবক তার ছেলেকে ডেকে নিয়ে যায় বলে তিনি জানতে পারেন। এরপর পরিবারের সদস্যরা বিভিন্ন স্থানে তাকে খুঁজতে থাকেন এবং রাত সাড়ে ৯টার দিকে আশিবিঘা এলাকায় একটি গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়ার খবর পেয়ে গিয়ে তা নিজের ছেলের বলে শনাক্ত করেন। ঘটনাস্থলের পাশ থেকে গুলির খোসাও পাওয়া গেছে। ছেলে হারানোর বেদনা প্রকাশ করে মনির শেখ জানান, তার ছেলের একমাত্র ‘দোষ’ ছিল বন্ধুবান্ধবদের সঙ্গে ঘোরাফেরা করা।

লবণচরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ মোশাররফ হোসেন জানান, নাজমুল হত্যায় জড়িতদের শনাক্ত ও গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান শুরু হয়েছে এবং তদন্ত শেষে হত্যার প্রকৃত কারণ ও জড়িতদের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যাবে।