জুলাইয়ে গত বছরের চেয়ে ৩ গুণ রোগী, আগস্টের ২০ দিনেই ৭৬ শনাক্ত

ফেনীতে বাড়ছে ডেঙ্গুর প্রকোপ। আগস্টের প্রথম ২০ দিনেই জেলায় নতুন করে ৭৬ জনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। এ নিয়ে চলতি বছর ফেনীতে ডেঙ্গু আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৭৬ জনে।

সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় জেলায় নতুন করে চারজনের ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে। আক্রান্ত চারজনই ফেনী সদর উপজেলার। বর্তমানে ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পাঁচজন এবং দাগনভূঞা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে দুজন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন।

উপজেলাভিত্তিক হিসাবে ফেনী সদরে সবচেয়ে বেশি ১০১ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছেন। দাগনভূঞায় ২৯, সোনাগাজীতে ১৯, পরশুরামে ১৩, ছাগলনাইয়ায় ১০ এবং ফুলগাজীতে পাঁচজন আক্রান্ত হয়েছেন।

স্বাস্থ্যবিভাগের তথ্য অনুযায়ী, জুলাই মাসে ফেনীতে ডেঙ্গু শনাক্ত হয় ৭২ জনের। গত বছরের জুলাইয়ে এ সংখ্যা ছিল ২৫ জন। জুলাইয়ে একমাসের ব্যবধানে, তাও ২০ দিনেই শনাক্ত ৭৬ জন, এরমধ্য দিয়েই এ বছর ডেঙ্গুর সংক্রমণ দ্রুত বাড়ার চিত্র স্পষ্ট।

স্বাস্থ্যবিভাগ বলছে, এডিস মশার প্রজননস্থল বাড়ার কারণে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। জমে থাকা স্বচ্ছ পানিতে এ মশা বংশবিস্তার করে। বাড়ির ছাদ, ফুলের টব, পরিত্যক্ত পাত্র, নির্মাণাধীন ভবনসহ বিভিন্ন স্থানে জমে থাকা পানি এডিস মশার প্রজননস্থল হতে পারে।

ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ায় মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের পাশাপাশি পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ও জনসচেতনতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। ব্যক্তি ও পরিবার পর্যায়েও নিয়মিত বাড়ি ও আশপাশ পরিষ্কার রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট ফেনী জেনারেল হাসপাতালে নার্স ও সহকারীদের আচরণ এবং সেবা নিয়ে রোগী ও স্বজনদের অভিযোগ রয়েছে। ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় চিকিৎসাসেবার মান ও রোগীদের প্রতি আন্তরিক আচরণ নিশ্চিত করার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।

চিকিৎসকদের মতে, জ্বর, শরীর ব্যথা, মাথাব্যথা, দুর্বলতা বা বমির মতো উপসর্গ দেখা দিলে অবহেলা না করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের ভারপ্রাপ্ত তত্ত্বাবধায়ক ডা. মোবারক হোসেন দুলাল বলেন, ডেঙ্গু রোগীদের চিকিৎসার পাশাপাশি এডিস মশার প্রজননস্থল নিয়ন্ত্রণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। রোগী শনাক্ত হলে চিকিৎসার পাশাপাশি আশপাশের পরিবেশ পরিচ্ছন্ন রাখার বিষয়েও গুরুত্ব দিতে হবে।

স্বাস্থ্যবিভাগের তথ্যা,নুযায়ী, তবে এখন পর্যন্ত শনাক্ত ১৭৬ রোগীর অধিকাংশই চিকিৎসা নিয়ে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। এডিস মশার প্রজননস্থল দ্রুত ধ্বংস করা না গেলে সামনে ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে, বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।