সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি ‘তৌহিদী জনতা’র

সিলেটের বিয়ানীবাজারে আগামী ২৮ আগস্ট সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ আয়োজনকে কেন্দ্র করে মুখোমুখি অবস্থানে স্থানীয় দুইটি পক্ষ। 

একদিকে গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী এই আয়োজন ঘিরে উৎসাহ-উদ্দীপনা, অন্যদিকে ‘তৌহিদী জনতা লাউতা ইউনিয়ন’ ব্যানারে প্রতিযোগিতা বন্ধের দাবিতে সরব একটি গোষ্ঠী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও চলছে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা।

শনিবার (২২ আগস্ট) স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিবছরের ধারাবাহিকতায় এবারও আগামী ২৮ আগস্ট সুনাই নদীতে নৌকাবাইচ আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন লাউতা ও বাহাদুর গ্রামের স্থানীয় যুবকেরা। 

নৌকাবাইচ নিয়ে প্রচার-প্রচারণাও চালাচ্ছেন তারা। এই বাইচ কেন্দ্র করে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে পুরো জেলাজুড়ে। তবে, গত বৃহস্পতিবার স্থানীয় বারিগ্রাম বাজার মসজিদে ‘তৌহিদী জনতা লাউতা ইউনিয়ন’-এর ব্যানারে সভা করে নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি তুলে একটি গোষ্ঠী। 

স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, নৌকাবাইচ এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের আনন্দের আয়োজন। প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক মানুষ এটি উপভোগ করতে আসেন। এবার একটি পক্ষের বিরোধিতার কারণে বিষয়টি নিয়ে মানুষের মধ্যে কৌতূহল ও উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। 

এ বিষয়ে লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান গউস উদ্দিন বলেন, ‘‘নৌকাবাইচ নিয়ে পরিস্থিতি যাতে উত্তেজনাকর না হয়, সে জন্য উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে বিষয়টির সমাধানের চেষ্টা চলছে।’’ 

লাউতা ইউপির চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেন বলেন, ‘‘ফেসবুকে নৌকাবাইচের পক্ষে-বিপক্ষে লেখালেখি হচ্ছে। তবে এর বাইরে আমার কিছু জানা নেই।’’ 

এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) উম্মে হাবিবা মজুমদার জানান, নৌকাবাইচ বন্ধের দাবির বিষয়টি জানার পর তিনি খোঁজ নিয়েছেন। প্রতিবছর সেখানে নৌকাবাইচ হয়ে আসছে। তবে এবার একটি পক্ষ এটি না করার দাবি জানিয়েছে। তাদের যুক্তি, গত বছর নৌকাবাইচকে কেন্দ্র করে একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছিল। এ কারণে এবার নৌকাবাইচ বন্ধের দাবি জানিয়েছে ওই পক্ষ। 

তবে ইউএনওর মতে, নৌকাবাইচ একটি ঐতিহ্যবাহী খেলা। আয়োজকেরা প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে জানিয়ে এবং প্রয়োজনীয় অনুমতি নিয়ে আয়োজন করলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করা হবে। তবে এখন পর্যন্ত আয়োজকরা প্রশাসনকে কিছু জানাননি। 

এ বিষয়ে বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মোহাম্মদ মাহফুজুল করিম বলেন, ‘‘নৌকাবাইচ নিয়ে এলাকায় দুটি পক্ষ সৃষ্টি হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে তারা স্থানীয়ভাবে কথা বলছেন।’’ 

বিষয়টি নজরদারিতে রয়েছে জানিয়ে ওসি জানান, ইউএনও এ নিয়ে কাজ করছেন।