তালা ভেঙে বাড়িতে ঢুকতেই মিললো একই পরিবারের ৪ সদস্যের মরদেহ

রংপুর নগরীর কামালকাছনা মাসুয়া পাড়া মহল্লার একটি বাসা থেকে অবসরপ্রাপ্ত স্কুল শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তী, স্ত্রী প্রীতিলতা চক্রবর্তীসহ ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

শনিবার (২২ আগস্ট) রাত পৌনে ১১টার দিকে তালাবদ্ধ বাসা থেকে তাদের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। রংপুর মহানগর কোতয়ালী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।বর্তমানে পুলিশ কর্মকর্তা ও র‌্যাবের সদস্যরা পুরো বাড়িটি ঘিরে রেখেছে।

এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, গত ২ দিন ধরে নগরীর মাসুয়াপাড়া মহল্লার সাবেক শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর বাসার দরজা তালাবদ্ধ ছিলো। স্বজনরা দুদিন ধরে অনবরত ফোন দেবার পরেও কেউই ফোন রিসিভ না করায় তাদের মাঝে সন্দেহ দেখা দেয়। পরে পুলিশে খবর দেওয়া হলে শনিবার রাত পৌনে ১১ টার দিকে দরজা ভেঙ্গে বাসায় প্রবেশ করে ঘরের মধ্যে ২ জনের এবং বাসার ছাদের কাছে অপর দুজনসহ মোট ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করে তারা।

এদিকে বাসার ভেতরে ভাঙা আলমারি ও ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা মালামাল ও অলংকারের বাক্স পড়ে থাকতে দেখে স্বজনদের ধারণা বাসায় ডাকাতি করে মালামাল লুট করে নেওয়ার সময় বাধা দেওয়ায় তাদের হত্যা করে দুবৃর্ত্তরা। 

নিহত স্কুল শিক্ষক গণপতি চক্রবর্তীর চাচাতো বোন মালতি চক্রবর্তীর অভিযোগ, “এটি পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড।” তিনি হত্যাকারীর বিচার দাবি করেন।

এ বিষয়ে রংপুর মহানগর পুলিশের উপ কমিশনার সনাতন চক্রবর্তী সাংবাদিকদের বলেন, “বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে, আমরা ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছি ময়নাতদন্তের জন্য রংপুর মেডিকেল কলে হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হবে। সেই সঙ্গে ঘটনার সাথে জড়িতদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে। হত্যাকাণ্ডের সম্ভাব্য কারণ ও মোটিভ খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।