খুলে দেওয়া হলো কাপ্তাই বাঁধের ১৬ গেট, ছাড়ছে ১৮ হাজার কিউসেক পানি

কাপ্তাই হ্রদের পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাওয়ায় কাপ্তাই বাঁধের স্পিলওয়ের ১৬টি জলকপাট ১ ফুট করে খুলে দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে এসব গেট দিয়ে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ১৮ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশন করা হচ্ছে।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে স্পিলওয়ের ১৬টি গেট প্রথমে ৬ ইঞ্চি করে খুলে প্রায় ৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে ছাড়া শুরু হয়। পরে রাত ১০টা ৩৫ মিনিটে গেটগুলোর ওপেনিং আরও ৬ ইঞ্চি বাড়িয়ে মোট ১ ফুট করা হয়। এতে পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ বেড়ে বর্তমানে প্রায় ১৮ হাজার কিউসেকে দাঁড়িয়েছে।

কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক (তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী) মাহমুদ হাসান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

তিনি সর্বশেষ জানিয়েছেন, রবিবার সকাল ১০টায় স্পিলওয়ের গেটগুলো ২ ফুট পর্যন্ত খোলার পরিকল্পনা থাকলেও সময় পরিবর্তন হয়। নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, এদিন ভোর ৬টায় স্পিলওয়ের ১৬টি গেটের ওপেনিং বাড়িয়ে ২ ফুট করা হয়।

গেটগুলো ২ ফুট পর্যন্ত খোলা হলে স্পিলওয়ের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩৯ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে নিষ্কাশিত হতে পারে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।

এর আগে শনিবার দুপুরে কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক স্বাক্ষরিত এক জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, দুপুর ২টায় কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা ছিল ১০৫.৬৪ ফুট এমএসএল। সন্ধ্যার পর পানি ছাড়ার সময় হ্রদের পানির উচ্চতা বেড়ে প্রায় ১০৫ দশমিক ৯৮ ফুট এমএসএলে পৌঁছে যায়। কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ ধারণক্ষমতা ১০৯ ফুট এমএসএল।

হ্রদের পানি বৃদ্ধি অব্যাহত থাকায় বাঁধের ওপর চাপ কমানো এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে স্পিলওয়ের ১৬টি গেট খুলে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশনের সিদ্ধান্ত নেয় কর্তৃপক্ষ।

এদিকে বর্তমানে কাপ্তাই জলবিদ্যুৎ কেন্দ্রের পাঁচটি ইউনিট চালু রয়েছে। বিদ্যুৎ উৎপাদনের মাধ্যমে প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩২ হাজার কিউসেক পানি কর্ণফুলী নদীতে প্রবাহিত হচ্ছে। এর সঙ্গে স্পিলওয়ের ১৬টি গেট দিয়ে বর্তমানে আরও প্রায় ১৮ হাজার কিউসেক পানি ছাড়া হচ্ছে।

রোববার ভোর ৬টায় গেটগুলো ২ ফুট পর্যন্ত খোলা হলে স্পিলওয়ের মাধ্যমে পানি নিষ্কাশনের পরিমাণ বেড়ে প্রায় ৩৯ হাজার কিউসেকে পৌঁছাতে পারে। এতে কর্ণফুলী নদীতে পানির প্রবাহ ও নদীর পানি আরও বৃদ্ধি পাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

এ পরিস্থিতিতে কাপ্তাই, রাঙামাটি ও চট্টগ্রাম অঞ্চলের কর্ণফুলী নদীর তীরবর্তী নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। নদীর তীরবর্তী এলাকায় বসবাসকারী ও চলাচলকারীদের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে প্রয়োজনীয় সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।