অনলাইন ব্যবসা যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ ও তদারকির জন্য সরকার ই-কমার্স কর্তৃপক্ষ গঠনের বিষয়টি সক্রিয়ভাবে বিবেচনা করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
রবিবার (৩০ আগস্ট) জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে শেরপুর-১ আসনের বিরোধীদলীয় (জামায়াতে ইসলামী) সদস্য এম রাশেদুল ইসলাম রাশেদের উত্থাপিত এক জরুরি জনগুরুত্বসম্পন্ন নোটিশের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ই-কমার্স ব্যবসা একটি চলমান প্রক্রিয়া এবং এই কর্তৃপক্ষ গঠনের মাধ্যমে নিবন্ধিত মাল্টি-লেভেল মার্কেটিং (এমএলএম) কোম্পানিগুলোর কার্যক্রম কঠোর নজরদারির আওতায় আনা হবে। তিনি জানান, কোভিড-১৯ মহামারির আগে ও পরে দেশে অনলাইন ব্যবসা দ্রুত সম্প্রসারিত হয়েছে, আর এসব প্রতিষ্ঠানকে আইনি কাঠামোয় আনতে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় জাতীয় ডিজিটাল কমার্স নীতি, ডিজিটাল কমার্স পরিচালনা নির্দেশিকা এবং ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি নিবন্ধন নির্দেশিকাসহ একাধিক আইন ও নীতিমালা প্রণয়ন করেছে।
ই-ভ্যালি, ই-অরেঞ্জ, কিউ-কম, ধামাকা শপিং ও আলিশা মার্টসহ কয়েকটি এমএলএম প্রতিষ্ঠানের আর্থিক প্রতারণার প্রসঙ্গ টেনে মন্ত্রী জানান, এসব প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরে মোট ৫৮ হাজার ৭২০টি অভিযোগ জমা পড়েছে, যার বিপরীতে আর্থিক দাবির পরিমাণ প্রায় ৩ হাজার ৮৬৯ কোটি টাকা।
তিনি আরও জানান, ২০২২ সাল পর্যন্ত অনলাইন ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোর তদারকি ও নিবন্ধনের জন্য দেশে কোনো নির্দিষ্ট আইনগত কর্তৃপক্ষ ছিল না। পরে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ডিজিটাল বিজনেস আইডেন্টিটি নিবন্ধন নির্দেশিকা জারি করে এই দায়িত্ব যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের পরিদপ্তরকে (আরজেএসসি) দেয়। এ পর্যন্ত আরজেএসসি প্রায় ১ হাজার ৯০২টি প্রতিষ্ঠানকে ডিজিটাল নিবন্ধন দিয়েছে।
মন্ত্রী জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর এসব প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে ৫৩১ কোটি টাকা উদ্ধার করেছে, যার মধ্যে ৪৭২ কোটি টাকা ইতোমধ্যে প্রকৃত ভোক্তাদের হিসাবে বিতরণ করা হয়েছে। বাকি অর্থ যাচাই-বাছাই শেষে বিতরণ করা হবে বলে জানান তিনি।