দীর্ঘ আট বছর পর সিলেট এমএজি ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে আবারও কোনো বিদেশি এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট অবতরণ করেছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে ১৩৩ জন যাত্রী নিয়ে মাস্কাট থেকে সালাম এয়ারের একটি ফ্লাইট ওসমানী বিমানবন্দরে অবতরণ করে।
সকাল ৭টা ৩০ মিনিটে ফ্লাইটটি বিমানবন্দরে অবতরণ করে। পরে ফিরতি ফ্লাইট হিসেবে সকাল ৮টা ৪৫ মিনিটে যাত্রী নিয়ে মাস্কাটের উদ্দেশে ওসমানী বিমানবন্দর ছেড়ে যায়।
সালাম এয়ারের সিলেট এরিয়া ইনচার্জ সেলিম আল রাজী জানান, উদ্বোধনী ফ্লাইটটি বিমানবন্দরের ট্যাক্সিওয়েতে প্রবেশের সময় ওয়াটার ক্যানন স্যালুটের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়। এ সময় আগত ও মাস্কাটগামী যাত্রীদের সালাম এয়ারের পক্ষ থেকে মিষ্টিমুখ করানো হয় এবং অতিথিদের ফুল দিয়ে শুভেচ্ছা জানানো হয়।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন সালাম এয়ারের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার স্টিভ অ্যালেন। বিশেষ অতিথি ছিলেন ওমান দূতাবাসের ডেপুটি চিফ অব মিশন ফাতিহা আহমেদ আল বালুশি।
এ ছাড়া অনুষ্ঠানে সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের পরিচালক মোহাম্মদ হাফিজ আহমেদ, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সিলেট জেলা ব্যবস্থাপক শরিফুল আলম, বিমানের সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের স্টেশন ইনচার্জ শাকিল আহমদ, সালাম এয়ারের এরিয়া ম্যানেজার সাজিদ খান, বাংলাদেশ কান্ট্রি ম্যানেজার মোহাম্মদ রাজন এবং বাংলাদেশে সালাম এয়ারের জিএসএ পার্টনারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম. এ. লতিফ শাহরিয়ার জাহেদিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠান শেষে অতিথিদের সম্মানে নগরীর একটি অভিজাত রেস্টুরেন্টে মধ্যাহ্নভোজের আয়োজন করা হয়।
সালাম এয়ারের চিফ কমার্শিয়াল অফিসার স্টিভ অ্যালেন বলেন, সিলেট ও মাস্কাটের মধ্যে দীর্ঘদিনের আত্মিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। সরাসরি ফ্লাইট চালুর মাধ্যমে এ সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হবে।
তিনি বলেন, “সিলেটের যাত্রীদের চাহিদা ও সম্ভাবনা সম্পর্কে সালাম এয়ার কর্তৃপক্ষ অবগত। ভবিষ্যতে আরও নতুন গন্তব্য, উন্নত সেবা ও অধিক ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে সিলেটের এভিয়েশন বাজার সম্প্রসারণের পরিকল্পনা রয়েছে।“
সংশ্লিষ্টরা জানান, বর্তমানে সিলেট-মাস্কাট রুটে সপ্তাহে তিনটি সরাসরি ফ্লাইট পরিচালনা করবে সালাম এয়ার। যাত্রী চাহিদা বিবেচনায় আগামী মাস থেকে ফ্লাইট সংখ্যা সপ্তাহে পাঁচটিতে উন্নীত করার পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি ২০২৭ সালের জানুয়ারি থেকে প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ থেকে সালাম এয়ার বর্তমানে মোট ২৪টি ফ্লাইট পরিচালনা করছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম থেকে ১৪টি, ঢাকা থেকে ৭টি এবং সিলেট থেকে ৩টি ফ্লাইট রয়েছে।
এদিকে সালাম এয়ারের মাধ্যমে সৌদি আরবে ওমরাহ যাত্রীদের যাতায়াতের খরচও কমে এসেছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। বিভিন্ন ট্রাভেল এজেন্সি সিলেট-মাস্কাট-জেদ্দা রুটে সালাম এয়ারের মাধ্যমে ওমরাহ প্যাকেজ ১ লাখ ২০ হাজার টাকা থেকে ঘোষণা করেছে।
সালাম এয়ারের গ্লোবাল নেটওয়ার্ক মধ্যপ্রাচ্য, আফ্রিকা, এশিয়া উপমহাদেশ ও ইউরোপের বিভিন্ন দেশে বিস্তৃত। বর্তমানে এয়ারলাইন্সটি ৪০টি গন্তব্যে নিয়মিত ফ্লাইট পরিচালনা করছে।
সিলেট ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে প্রথম বিদেশি এয়ারলাইন্স হিসেবে দুবাইভিত্তিক ফ্লাইদুবাই ফ্লাইট পরিচালনা শুরু করেছিল। ২০১৫ সালের ১ এপ্রিল সিলেট-দুবাই রুটে ফ্লাইট চালু করে প্রতিষ্ঠানটি। শুরুতে সপ্তাহে পাঁচ দিন ফ্লাইট পরিচালনা করলেও পরে যাত্রী চাহিদা বাড়ায় প্রতিদিন ফ্লাইট পরিচালনা করা হয়।
তবে পরিচালনাগত সমস্যার কারণে ২০১৮ সালের সেপ্টেম্বরে সিলেট-দুবাই রুটে ফ্লাইট বন্ধ করে দেয় ফ্লাইদুবাই। এরপর দীর্ঘ প্রায় আট বছর পর মঙ্গলবার সালাম এয়ারের ফ্লাইট অবতরণের মধ্য দিয়ে ওসমানী বিমানবন্দরে আবারও বিদেশি এয়ারলাইন্সের সরাসরি ফ্লাইট চালু হলো।