বগুড়া শজিমেক হাসপাতালে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি প্রত্যাহার

বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতালে দুদিন ভোগান্তির পর কর্মবিরতি সাময়িক প্রত্যাহার করেছেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এক রোগীর মৃত্যুকে কেন্দ্র করে স্বজনদের হামলায় কয়েকজন ইন্টার্ন চিকিৎসক আহত হওয়ার অভিযোগে তারা মঙ্গলবার মধ্য রাত থেকে কর্মবিরতি শুরু করেন।

বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, জেলা প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের মতবিনিময় সভায় দাবি পূরণের আশ্বাস পেয়ে কর্মবিরতি প্রত্যাহারের ঘোষণা দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। কর্মসূচি প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেন, হাসপাতালের ইন্টার্ন চিকিৎসক রিতুল মণ্ডল স্নিগ্ধ।

এদিকে, হামলার ঘটনায় জড়িত থাকা ছাত্রদলের পাঁচ নেতাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মনজুর-ই-মোর্শেদ জানান, সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। ছাত্রদলের নামে হামলায় জড়িতদের বহিষ্কার, নিরাপত্তায় পুলিশ ফোর্স বাড়ানো, আর্মড আনসার মোতায়েন, ১৮ শয্যার জন্য প্রয়োজনীয় জনবল নিয়োগসহ দাবিগুলো মেনে নেওয়ায় ইন্টার্নরা তাদের কর্মসূচি প্রত্যাহার করেছেন। বৃহস্পতিবার রাত থেকে তারা স্বাভাবিক কাজ শুরু করবেন।

জানা গেছে, গত মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতালের সপ্তম তলায় মেডিসিন ওয়ার্ডে বগুড়া সদরের রাজাপুর গ্রামের আবদুল মালেক (৫৫) নামে এক রোগী চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। মালেকের মৃত্যুকে কেন্দ্র করে রোগীর স্বজনরা কর্তব্যরত চিকিৎসকদের ওপর হামলা চালান।

এদিকে, গত দু’দিন ধরে ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতিতে থাকায় হাসপাতালের জরুবি বিভাগে চিকিৎসাসেবা চালু থাকলেও অন্যান্য সেবা ব্যাহত হয়। এতে দূর-দূরান্ত থেকে আসা রোগী ও স্বজনরা ভোগান্তিতে পড়েন।

এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে বহির্বিভাগের টিকিট কাউন্টার বন্ধ করে দেন ইন্টার্ন চিকিৎসকরা। এতে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগী ও স্বজনদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপে বহির্বিভাগের কার্যক্রম স্বাভাবিক হয়।

এদিকে অচলাবস্থা নিরসনে বৃহস্পতিবার বেলা ১২টার দিকে বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মিলনায়তনে মতবিনিময় সভা শুরু হয়। প্রায় তিন ঘণ্টার সভায় জেলা প্রশাসক (ডিসি) তৌফিকুর রহমান, পুলিশ সুপার (এসপি) মীর্জা সায়েম মাহমুদ, জেলা পরিষদে প্রশাসক একেএম আহসানুল তৈয়ব জাকির, বগুড়া সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক এমআর ইসলাম স্বাধীন, হাসপাতালের সাবেক অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, বর্তমান অধ্যক্ষ অধ্যাপক ডা. ওয়াদুদুল হক তরফদার, হাসপাতালের উপ-পরিচালক ডা. মঞ্জুর-এ-মোর্শেদ, চিকিৎসক নেতৃবৃন্দ, সামাজিক ও রাজনৈতিক দলের নেতারা অংশ নেন। আলোচনা সভায় স্বল্প সময়ের মধ্যে দাবিগুলো মেনে নেওয়ার আশ্বাস দেওয়ায় ইন্টার্ন চিকিৎসকরা কর্মবিরতি প্রত্যাহারের সিন্ধান্ত নেন।

বৈঠক চলার সময় বগুড়া শহর ছাত্রদল এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে সংগঠনের ১৮ নম্বর ওয়ার্ডের আহ্বায়ক নাফিউল ইসলাম, সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক মনির হোসেন, যুগ্ম আহ্বায়ক মো. প্রান্ত ইসলাম, সদস্য রাকিবুল হাসান রাকিব এবং ১৯ নম্বর ওয়ার্ডের সহসাংগঠনিক সম্পাদক এস এম শিহাবকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

জেলা ছাত্রদলের সভাপতি হাবিবুর রশিদ সন্ধান জানান, হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিরুদ্ধে দলীয় ও আইনী কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

অন্যদিকে, প্রশাসন ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের আশ্বাসের পর কর্মবিরতি প্রত্যাহার করায় এখন স্বাভাবিক হয়েছে চিকিৎসাসেবা। এতে জনগণের মাঝে স্বস্তি দেখা দিয়েছে।