দীর্ঘ দুই বছর পর আবারও বৈঠার ছলাৎ ছলাৎ শব্দে মুখর হয়ে উঠল ব্রাহ্মণবাড়িয়ার শান্ত তিতাস নদী। শরতের পড়ন্ত বিকেলে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা উপভোগ করতে ভিড় জমান লাখো মানুষ।
শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে জেলা প্রশাসনের আয়োজনে অনুষ্ঠিত এই বর্ণাঢ্য প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অর্জন করে জেলার সদর উপজেলার ক্ষমতাপুর গ্রামের শাপলা বয়েজ ক্লাবের নৌকা।
সংশ্লিষ্টরা জানান, সর্বশেষ ২০২৩ সালে তিতাস নদীতে নৌকাবাইচ অনুষ্ঠিত হয়েছিল। ভরা তিতাসে এই আয়োজন ব্রাহ্মণবাড়িয়াবাসীর প্রাণের উৎসব হিসেবে পরিচিত, যাকে ঘিরে জেলাজুড়ে ছড়িয়ে পড়ে উৎসবের আমেজ। আশপাশের বিভিন্ন জেলা থেকেও দর্শনার্থীরা আসেন এই আয়োজন উপভোগ করতে।
শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টায় আনুষ্ঠানিকভাবে প্রতিযোগিতা শুরু হলেও দুপুরের আগে থেকেই দর্শনার্থীদের ভিড় জমতে শুরু করে। প্রতিযোগিতা শুরুর পর নদীর দুই তীর জনসমুদ্রে পরিণত হয়।
জেলা শহরের শিমরাইলকান্দি থেকে মেড্ডা এলাকা পর্যন্ত অংশে অনুষ্ঠিত এই প্রতিযোগিতায় জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা ৯টি নৌকা অংশ নেয়। রঙিন নৌকার মাঝিদের বৈঠা যতই গর্জে উঠছিল, ততই উত্তেজনায় ফেটে পড়ছিলেন তিতাসপাড়ের মানুষজন। দুই তীরে দাঁড়িয়ে দর্শনার্থীরা প্রতিযোগিতা উপভোগের পাশাপাশি নিজেদের প্রিয় দলকে সমর্থনও জানান।
বাইচ দেখতে আসা ইতালিপ্রবাসী রনি আলম বলেন, “নৌকাবাইচ তাদের প্রাণের উৎসব। ঢাকা থেকে অনেক কষ্ট করে সকালেই তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় এসেছেন এবং নদীর দুই পাড়ের মানুষের উচ্ছ্বাস দেখে সব ক্লান্তি ভুলে গেছেন।”
আরেক দর্শনার্থী আল আমিন শাহীন বলেন, “নৌকাবাইচকে ঘিরে তিতাসপাড়ের মানুষের মধ্যে আনন্দের জোয়ার বয়ে যায় এবং গোটা ব্রাহ্মণবাড়িয়া উৎসবমুখর হয়ে ওঠে। তিনি প্রতিবছর এই আয়োজন অব্যাহত রাখার প্রত্যাশা জানান।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক মো. আবুসাঈদ বলেন, “নৌকাবাইচ এখানকার মানুষের প্রাণের উৎসব এবং আগামী বছর থেকে আরও জমকালোভাবে এটি আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে।”
ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ (সদর ও বিজয়নগর) আসনের সংসদ সদস্য খালেদ হোসেন মাহবুব বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও এখানকার সংস্কৃতি নিয়ে নেতিবাচক প্রচারণা লক্ষ করা যাচ্ছে। এই নৌকাবাইচের মাধ্যমে প্রমাণিত হলো, ব্রাহ্মণবাড়িয়া একটি সাংস্কৃতিক রাজধানী এবং নৌকাবাইচ এখানকার ঐতিহ্যের অংশ। তিনি প্রতিবছর নিয়মিতভাবে এই আয়োজন চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা প্রকাশ করেন।”
পরে বিজয়ী দলের হাতে পুরস্কার তুলে দেন অতিথিরা। পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা পরিষদের প্রশাসক সিরাজুল ইসলাম, স্থানীয় সরকার বিভাগের উপপরিচালক শরিফুল ইসলাম, পুলিশ সুপার শাহ মো. আব্দুর রউফ, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক রঞ্জন চন্দ্র দে, জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোবারক হোসেন, জেলা বিএনপির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি জহিরুল হক ও সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লাসহ অনেকে।
প্রসঙ্গত, দুপুর ২টার পর থেকেই বিভিন্ন স্থান থেকে দর্শনার্থীরা এসে তিতাস নদীর তীরে জড়ো হতে শুরু করেন।