খুলনায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং চলছে

খুলনায় চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের সরবরাহ কম থাকায় খুলনায় ঘণ্টায় ঘণ্টায় লোডশেডিং চলছে। তীব্র লোডশেডিংয়ে ভুগছে নগরবাসী। বুধবার খুলনা ও বরিশাল অঞ্চলে ১২৯ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়। এর মধ্যে শুধু খুলনাতেই লোডশেডিং হয় ৫৬ মেগাওয়াট।

বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় খুলনা জোনে ৬১৮ মেগাওয়াট চাহিদার বিপরীতে ৪৯৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এর ফলে ১২৪ মেগাওয়াট লোডশেডিং হয়।

এ ঘাটতির কারণে খুলনা মহানগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকায় পর্যায়ক্রমে লোডশেডিং হচ্ছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ ঘাটতির কারণে দিনের পাশাপাশি রাতেও দফায় দফায় বিদ্যুৎ চলে যাচ্ছে। তীব্র গরমে ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে দুর্ভোগে পড়েছেন বাসিন্দারা।

খুলনা পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির আওতাধীন এলাকার বাসিন্দারা অভিযোগ করেন, পাইকগাছা, বটিয়াঘাটা, দাকোপ, ডুমুরিয়া ও কয়রাসহ বিভিন্ন উপজেলায় নিয়মিত লোডশেডিং হচ্ছে।

টুটপাড়া এলাকার বাসিন্দা মরিয়ম খাতুন বলেন, “রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় ঠিকমতো ঘুমাতে পারি না। বিদ্যুতের এই অবস্থা অব্যহত থাকায় জীবনযাপন কঠিন হয়ে পড়ছে। গত চার দিন ধরে এ অবস্থা চলছে। এতে রাতে পড়াশোনাও করতে পারছি না।”

চানমারির বাসিন্দা প্রিয়া বেগম বলেন, “সন্ধ্যার পর প্রায়ই বিদ্যুৎ থাকে না। দিনের বেলাতেও চার-পাঁচবার বিদ্যুৎ চলে যায়। দেড় ঘণ্টার আগে অনেক সময় বিদ্যুৎ আসে না।”

নতুন বাজারের ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ী কামাল হোসেন বলেন, “বিদ্যুৎ ঠিকমতো না থাকায় জেনারেটর চালিয়ে কাজ করতে হচ্ছে। এতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাচ্ছে। বিদ্যুৎ না থাকায় কারখানার শ্রমিকদেরও ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। সময়মতো পণ্য প্রস্তুত ও সরবরাহ করতে না পারায় ব্যবসায়ও ক্ষতির মুখে পড়তে হচ্ছে।”

এদিকে, বাগেরহাটের রামপাল তাপ বিদ্যুৎকেন্দ্রের ২ নম্বর ইউনিট বন্ধ রাখা হয়েছে। এতে কেন্দ্রটির উৎপাদন অর্ধেকে নেমে এসেছে। এর ফলে স্থানীয় থেকে শুরু করে জাতীয় গ্রিডে শুরু হয়েছে লোডশেডিং। যান্ত্রিক ও কারিগরি জটিলতায় ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে ২ নম্বর ইউনিট বন্ধ করা হয়। ত্রুটি সামাল দিতে ভারত থেকে দুইজন বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী আসার কথা।

কিন্তু বুধবার বিকেলে পর্যন্ত তারা এসে পৌঁছাননি। আসতে আরও ২-১ দিন সময় লাগবে। ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদন পুরোদমে শুরু হতে আরও ৩-৪ দিন লাগতে পারে।

এ অবস্থায় বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর ১টায় ওজোপাডিকোর আওতাধীন খুলনা ও বরিশাল জোনে লোডশেডিং ছিল ১২৯ মেগাওয়াট।

জানা গেছে, ভারত-বাংলাদেশ যৌথ উদ্যোগে নির্মিত এই মেগা বিদ্যুৎকেন্দ্রটিতে পর্যাপ্ত কয়লার মজুত রয়েছে। কেন্দ্রটি থেকে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন ১,১০০ মেগাওয়াটের বেশি বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছিল। হঠাৎ করেই বয়লার অতিরিক্ত গরম হওয়া ও অভ্যন্তরীণ কারিগরি ত্রুটির কারণে ১৩ সেপ্টেম্বর সকালে কেন্দ্রটির ২ নম্বর ইউনিটটি পুরোপুরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। এতে প্ল্যান্টটির সার্বিক উৎপাদন ১,১০০ মেগাওয়াট থেকে কমে ৬০০ মেগাওয়াটের নিচে নেমে আসে।

রামপাল তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রের প্রধান জনসংযোগ কর্মকর্তা আনোয়ারুল আজিম জানান, ভারতীয় প্রকৌশলীরা এসে পৌঁছালে বয়লারের কাজ সম্পন্ন করা হবে। বয়লারের প্রাথমিক কাজ দেশি প্রকৌশলীরা শুরু করেছেন। তবে বিদ্যুৎ কেন্দ্রটি শতভাগ চালু ও উৎপাদন স্বাভাবিক হতে আরও অন্তত ৩ থেকে ৪ দিন সময় লাগতে পারে।

অন্যদিকে, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) সদস্য (উৎপাদন) মো. জহুরুল ইসলাম জানান, বন্ধ হয়ে যাওয়া ইউনিটটি বর্তমানে ‘কুল ডাউন’ বা ঠান্ডা করার প্রক্রিয়ায় রয়েছে।

বিদ্যুৎ কেন্দ্রে হঠাৎ এমন উৎপাদনে ধস নামায় পুরো খুলনা অঞ্চল জুড়ে গ্রাহকরা চরম লোডশেডিংয়ের কবলে পড়েছেন। তীব্র গরম ও লোডশেডিংয়ের কারণে সাধারণ মানুষের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। দ্রুততম সময়ে মেরামতের কাজ শেষ করে ২ নম্বর ইউনিটটি পূর্ণ উৎপাদনে ফেরানোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ গ্রাহকরা।