নতুন জাতীয় পে-স্কেল ২০২৬-এ সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট, বাড়ি ভাড়া ও বিভিন্ন ভাতায় বড় ধরনের পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে সরকারের চালু করা ৫ ও ১০% এর বিশেষ প্রণোদনা বাতিল করা হলেও চিকিৎসার পাশাপাশি প্রথমবারের মতো সব গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য মোবাইল ভাতার ব্যবস্থা রাখা হচ্ছে।
নতুন বেতন কাঠামোতে উচ্চ পদে ইনক্রিমেন্টের হার ধাপে ধাপে কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। গ্রেড-২০ থেকে গ্রেড-৬ পর্যন্ত মূল বেতনের ৫% হারে ইনক্রিমেন্ট বহাল থাকলেও গ্রেড-৫-এ ৪%, গ্রেড-৪ ও ৩-এ ৩.৫% এবং গ্রেড-২-এ ২.৭৫ % ইনক্রিমেন্ট পাওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। সশস্ত্র বাহিনীতেও একই নীতি অনুসরণের সিদ্ধান্ত হয়েছে।
বাড়ি ভাড়া ভাতার শতাংশ কমানো হলেও মূল বেতন বাড়ায় সামগ্রিক প্রাপ্তি বাড়বে। নতুন প্রস্তাবে ঢাকা সিটি কর্পোরেশন এলাকায় মূল বেতনের ৪০ থেকে ৬০%, অন্যান্য সিটি কর্পোরেশনে ৩০ থেকে ৫০ % এবং এসব এলাকার বাইরে ২৫ থেকে ৪৫% বাড়ি ভাড়া দেওয়ার কথা বলা হয়েছে।
উচ্চতর গ্রেড পাওয়ার সময়সীমা বিদ্যমান ১০ বছর থেকে কমিয়ে ৮ বছর করা হচ্ছে। দ্বিতীয়বার উচ্চতর গ্রেডের ক্ষেত্রে ৬ বছর চাকরির শর্ত রাখা হয়েছে। পদোন্নতিহীন ‘ব্লকড পদের’ কর্মীরা চাকরিজীবনে তিনবার (৮, ৬ ও ৮ বছর পর) উচ্চতর গ্রেডের সুবিধা পাবেন।
চিকিৎসা ভাতার ক্ষেত্রে ৫০ বছর পর্যন্ত বয়সীদের জন্য ৩ হাজার এবং ৫০ থেকে ৬০ বছর বয়সীদের জন্য ৪ হাজার টাকা নির্ধারণের প্রস্তাব করা হয়েছে। অন্যদিকে ৬০ থেকে ৭০ বছর বয়সী পেনশনভোগীরা ৫ হাজার এবং ৭০ বছরের ঊর্ধ্বের প্রবীণরা ৬ হাজার টাকা চিকিৎসা ভাতা পাবেন। এছাড়া নতুন কাঠামোয় ষষ্ঠ থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীরা প্রতি মাসে ১৫০ টাকা এবং প্রথম থেকে পঞ্চম গ্রেডের কর্মকর্তারা ৫০০ টাকা করে মোবাইল ভাতা পাবেন।
যাতায়াত ভাতা বাড়িয়ে ৬০০ টাকা, টিফিন ভাতা ৫০০ টাকা, ধোলাই ভাতা ৩০০ টাকা এবং ঝুঁকি ভাতাসহ বিশেষ ভাতাগুলো ২০% বাড়ানোর প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। তবে বাংলা নববর্ষ ভাতা ২০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১৫ শতাংশ করা হচ্ছে।
সশস্ত্র বাহিনীর ক্ষেত্রে মেজর জেনারেল ও সমপদের মূল বেতন নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৫৬ হাজার টাকা এবং নন-কমব্যাট্যান্ট পদের প্রারম্ভিক বেতন করা হয়েছে ২১ হাজার টাকা। বিমানবাহিনীর ফ্লাইং পে বৃদ্ধিসহ সেনাসদস্যদের প্রতিরক্ষা, কিট ও অন্যান্য ভাতা ১০ থেকে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত মন্ত্রিসভার বৈঠকে অনুমোদিত এই নতুন বেতন কাঠামোর ফলে প্রায় ২৪ লাখ সামরিক-বেসামরিক কর্মচারী এবং পৌনে ১০ লাখের বেশি পেনশনভোগী সুবিধা পাবেন। ১ জুলাই ২০২৬ থেকে নতুন পে-স্কেল কার্যকর ধরা হলেও আর্থিক সক্ষমতা বিবেচনায় বাস্তবায়নের প্রক্রিয়া ধাপে ধাপে সম্পন্ন হবে।