ঢাকার আশুলিয়ার জামগড়া এলাকায় প্রিটি গ্রুপের কারখানা চত্বরে সিলিন্ডারবাহী কাভার্ড ভ্যানে বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও আবাসিক এলাকায় ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা সিলিন্ডার এখনও সরানো হয়নি। বাড়ির উঠান, পাড়া-মহল্লা এমনকি ভবনের ছাদেও পড়ে থাকা এসব সিলিন্ডার নিয়ে চরম আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন স্থানীয়রা।
রবিবার (২০ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ঘটা বিস্ফোরণে একের পর এক সিলিন্ডার ছিটকে আবাসিক এলাকায় গিয়ে পড়ায় এখন সেগুলো নিয়েই নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। কোন সিলিন্ডারে এখনও গ্যাস অবশিষ্ট আছে, তা নিশ্চিত না হওয়ায় বাসিন্দাদের আতঙ্ক কাটছে না।
জামগড়া এলাকার বাসিন্দা হামিদুল ইসলাম জানান, তাদের বাড়ির উঠানে পড়ে থাকা সিলিন্ডারগুলো দ্রুত সরানো প্রয়োজন। তিনি বলেন, “বাসাবাড়ির ক্ষতি হয়েছে এবং সিলিন্ডারের ভয়ে শিশুরা ঠিকমতো বাইরে বেরোতে পারছি না, রাতেও ঘুম আসছে না আমাদের।“
একই এলাকার বাসিন্দা পারভীন আক্তারও জানান, দুই রাত ধরে দুশ্চিন্তায় ঘুমাতে পারছেন না তিনি, আবার বিস্ফোরণ ঘটার আশঙ্কায় আতঙ্কিত রয়েছেন। সিলিন্ডারগুলো দ্রুত সরানোর দাবি জানান তিনি।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ঘটনার কয়েক দিন পার হলেও সিলিন্ডার অপসারণে প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো দৃশ্যমান উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বাসিন্দা জহির মীর জানান, বিস্ফোরণে অনেক দূর পর্যন্ত সিলিন্ডার ছড়িয়ে পড়েছে এবং কর্তৃপক্ষের কেউ এখনও সেগুলো সংগ্রহে আসেননি বলে তার অভিযোগ।
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, “স্থানীয়দের কাছ থেকে বিষয়টি জেনে ফায়ার সার্ভিস ও থানা পুলিশের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে এবং দ্রুত সিলিন্ডারগুলো সরানোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।“
প্রসঙ্গত, রবিবার সন্ধ্যা পৌনে সাতটার দিকে আশুলিয়ার জামগড়ায় প্রিটি গ্রুপের কারখানা চত্বরে সিলিন্ডারবাহী একটি কাভার্ড ভ্যানে বিস্ফোরণ ঘটে, যা পরে আশপাশের আরও সাত-আটটি গাড়িতে ছড়িয়ে পড়ে। বিস্ফোরণের সময় একাধিক সিলিন্ডার প্রায় ২০০-৩০০ গজ দূরে ছিটকে গিয়ে আবাসিক এলাকা ও ভবনের ছাদে আঘাত হানে, কিছু সিলিন্ডার টিনের চাল ভেদ করে ঘরের ভেতরেও ঢুকে পড়ে। এ ঘটনায় মোট আটজন নিহত এবং অন্তত ২৫ জন আহত হন।