কুমিল্লায় কিশোর গ্যাংয়ে জড়িত সন্দেহে একরাতে আটক ৬২৪

কুমিল্লায় কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের বিরুদ্ধে বিশেষ অভিযান চালিয়েছে জেলা পুলিশ। এ সময় নগরী ও জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে কিশোর গ্যাংয়ে জড়িত সন্দেহে মোট ৬২৪ জনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীও আছেন।

বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকালে জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মিডিয়া কর্মকর্তা) লুৎফর রহমান সংবাদমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতভর জেলার ১৮ থানা এবং ডিবি পুলিশের যৌথ অভিযানে তাদের আটক করা হয়।

জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে উঠতি বয়সী কিশোরদের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়ার পর জেলার পুলিশ সুপার (এসপি) মো. আনিসুজ্জামানের নির্দেশে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

পুলিশ জানায়, আটক ব্যক্তিদের মধ্যে কুমিল্লা কোতোয়ালি মডেল থানায় ৭৫ জন, সদর দক্ষিণ মডেল থানায় ৪৬, বুড়িচং থানায় ৫০, মনোহরগঞ্জ থানায় ৪১, দাউদকান্দি থানায় ৫৯ ও লাকসাম থানায় ৩৫ জন আছেন। এছাড়া অন্য থানায় আটক ব্যক্তিরা রয়েছেন।

অভিযানের অংশ হিসেবে জেলার ১৮টি থানার পুলিশ একযোগে মাঠে নামে। কুমিল্লা নগরীর বিভিন্ন এলাকা ছাড়াও প্রতিটি থানা এলাকার যেসব স্থানে কিশোর গ্যাং ও বখাটেদের বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে, সেসব স্থানে অভিযান চালানো হয়। এতে জেলা পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও সরাসরি অংশ নেন।

অভিযানে আটক ৬২৪ জনের অপরাধের পূর্ব রেকর্ড ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার বিষয় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। প্রাথমিক তদন্ত শেষে তাদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ।

পুলিশ আরও জানায়, উঠতি বয়সের কিশোর-তরুণদের নানা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড উদ্বেগ বাড়াচ্ছে। ছিনতাই, ইভটিজিং থেকে শুরু করে সহিংসতায় কিশোর গ্যাংয়ের সম্পৃক্ততা রোধ করতে কঠোর অবস্থান নিয়েছে পুলিশ।

জেলার গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শামছুল আলম শাহ সংবাদমাধ্যমকে জানান, এক রাতে সাঁড়াশি অভিযান চালিয়ে ৬২৪ জনকে কিশোর গ্যাং সদস্য সন্দেহে আটক করা হয়েছে। কিশোর ও তরুণরা যাতে কোনোভাবেই অপরাধের পথ বেছে নিতে না পারে এবং এলাকায় শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় থাকে, সে লক্ষ্যে এই বিশেষ অভিযান অব্যাহত থাকবে। অপরাধ দমনে কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে।