আবারও কমেছে গ্যাসের সরবরাহ, ভোগান্তির শঙ্কা

প্রায় দুই মাস পর স্বাভাবিক হয়ে আসা গ্যাস সরবরাহ আবার কমেছে। সমুদ্রে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে আজ বৃহস্পতিবার এলএনজি সরবরাহ কমে যাওয়ায় পাইপলাইনে গ্যাসের সরবরাহও কমেছে। এতে গ্রাহকের কিছুটা ভোগান্তি হতে পারে।

গত ১৬ আগস্ট থেকে মহেশখালীর দুটি ভাসমান টার্মিনাল পুরো সক্ষমতায় তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) সরবরাহ করছিল। আজ বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশনের (পেট্রোবাংলা) পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে সমুদ্রে ভাসমান টার্মিনালে এলএনজি স্থানান্তরে বিঘ্ন ঘটেছে। এতে এলএনজি সরবরাহ কমে সামগ্রিক গ্যাস সরবরাহ কিছুটা কমেছে। বঙ্গোপসাগরে আবহাওয়ার উন্নতি হলে দ্রুততম সময়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়। অনিবার্য কারণে গ্যাস সরবরাহ কমায় গ্রাহকদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেছে পেট্রোবাংলা।

পেট্রোবাংলা সূত্র জানায়, দেশে দিনে গ্যাসের চাহিদা ৩৮০ কোটি ঘনফুট। দীর্ঘদিন ধরে ২৬৫ থেকে ২৭০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া হচ্ছিল। গতকাল বুধবারও সরবরাহ ছিল ২৬০ কোটি ঘনফুট। আজ সন্ধ্যায় তা কমে ২২০ কোটি ঘনফুটে নেমেছে। অর্থাৎ ৪০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ কমেছে।

সূত্র জানায়, দেশে সরবরাহ করা গ্যাসের ৩৫ থেকে ৪০ শতাংশ আসে আমদানি করা এলএনজি থেকে। এলএনজি পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপলাইনে দিতে কক্সবাজারের মহেশখালীতে সমুদ্রে দুটি ভাসমান টার্মিনাল আছে। এর একটি মার্কিন কোম্পানি এক্সিলারেটের, অন্যটি দেশীয় কোম্পানি সামিটের। দুটি টার্মিনাল মিলে সর্বোচ্চ ১০৫ কোটি ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করতে পারে।

আজ বিকেল ৫টায় এলএনজি ফুরিয়ে যাওয়ায় একটি টার্মিনাল থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এলএনজি নিয়ে নতুন জাহাজ এলেও বৈরী আবহাওয়ার কারণে তা টার্মিনালে স্থানান্তর করা যায়নি। এরপর থেকে টার্মিনালগুলো থেকে ৫৯ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছে। এর আগে কয়েক দিন ধরে প্রায় ১০০ কোটি ঘনফুট সরবরাহ করা হচ্ছিল।

গত ২১ জুলাই এক্সিলারেটের ভাসমান টার্মিনালে অগ্নিকাণ্ডের পর সেটি থেকে সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। এতে এলএনজি থেকে গ্যাস সরবরাহ অর্ধেকে নেমে আসে এবং দেশে তীব্র গ্যাস-সংকট দেখা দেয়। গত ১৫ আগস্ট ওই টার্মিনাল পুরোদমে সরবরাহের জন্য প্রস্তুত হলেও আমদানি করা জাহাজ না আসায় সরবরাহ বাড়ানো যাচ্ছিল না। এ মাসে আমদানি স্বাভাবিক হওয়ার পর সরবরাহ বাড়ানো হয়।