ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ডসহ বিভিন্ন খাতে চালু করা কার্ডগুলো সমন্বয় করে ভবিষ্যতে ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
তিনি বলেন, “প্রতিটি পরিবারের নারী প্রধানের নামে দেওয়া ফ্যামিলি কার্ডকে নারীর অর্থনৈতিক ক্ষমতায়নের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করছে সরকার।”
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে বাংলায় দেওয়া ভাষণে এসব কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী।
তারেক রহমান বলেন, “দেশের আর্থ-সামাজিক রূপান্তরে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। দেশের জনসংখ্যার অর্ধেকের বেশি নারী। তাদের আত্মনির্ভরশীল করে তুলতে শিক্ষা, কর্মসংস্থান, উদ্যোক্তা তৈরি ও দক্ষতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।”
নারীদের অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী করতে ক্ষুদ্রঋণের গুরুত্ব তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ ধরনের কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মাধ্যমে নারীরা বিভিন্ন আয়বর্ধক কাজে যুক্ত হওয়ার পাশাপাশি ছোট ব্যবসা ও কর্মসংস্থানের সুযোগ পাচ্ছেন।”
তিনি আরও বলেন, “ক্ষুদ্রঋণ ও দক্ষতা উন্নয়নের এসব উদ্যোগ নারীদের আর্থিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। একইসঙ্গে নিজেদের আর্থিক অবস্থার উন্নতির পাশাপাশি পরিবার ও সমাজের অর্থনীতিতেও তারা অবদান রাখছেন।”
নারীদের স্নাতক পর্যন্ত বিনা বেতনে শিক্ষার সুযোগ, কর্মসংস্থান ও নারী উদ্যোক্তা তৈরিতে সরকারের বিভিন্ন পদক্ষেপের কথাও তুলে ধরেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, “শুধু ভোটের গণতন্ত্র নয়, সরকার অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নও করতে চায়, যাতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির সুফল প্রতিটি পরিবার ও নাগরিকের কাছে পৌঁছায়।”
এই লক্ষ্যেই পিছিয়ে পড়া মানুষের জন্য বিভিন্ন সহায়তা কর্মসূচি চালু করা হয়েছে বলে জানান তিনি। এর মধ্যে রয়েছে ফ্যামিলি কার্ড, ফার্মার্স কার্ড, স্পোর্টস কার্ড ও ই-হেলথ কার্ড। এসব কার্ড সমন্বয় করে একটি ‘ইউনিভার্সাল কার্ড’ চালু করার কথা জানান তিনি।
এআই ব্যবহারে সমান সুযোগের আহ্বান
ভাষণে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অগ্রগতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “বিশ্ব এআই, বায়ো-টেকনোলজি ও বিজ্ঞানের নতুন যুগে প্রবেশ করছে। তবে প্রযুক্তির সুযোগ এখনো সবার জন্য সমান নয়।”
বাংলাদেশের তরুণ জনগোষ্ঠী ও ডিজিটাল সক্ষমতার কথা উল্লেখ করে তিনি উন্নত প্রযুক্তি, জ্ঞান ও গবেষণার সুযোগ সবার নাগালে আনার ওপর গুরুত্ব দেন। তিনি বলেন, “আজকের ডিজিটাল বিভাজন যেন আগামী দিনের এআই বিভাজনে পরিণত না হয়।”
উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য প্রযুক্তি হস্তান্তর, দক্ষতা বৃদ্ধি ও সাশ্রয়ী প্রযুক্তির সুযোগ নিশ্চিত করার পাশাপাশি এআই ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের সুফল কাজে লাগাতে জাতিসংঘের কার্যকর নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানান তিনি।
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী
মিয়ানমার থেকে জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত ১২ লাখের বেশি রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার বিষয়টি তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “নয় বছরের বেশি সময় ধরে তাদের আশ্রয় দেওয়ায় বাংলাদেশের সম্পদ, পরিবেশ ও নিরাপত্তার ওপর চাপ তৈরি হয়েছে।”
তিনি জানান, রোহিঙ্গা সংকটের উৎস মিয়ানমারে, তাই এর সমাধানও সেখানেই। তাদের নিরাপদে নিজ মাতৃভূমিতে ফিরিয়ে নেওয়াই এ সংকটের সমাধান বলে উল্লেখ করেন তিনি।
রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী সমাধানে জাতিসংঘ ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহযোগিতা চান প্রধানমন্ত্রী। প্রত্যাবাসন না হওয়া পর্যন্ত জীবনরক্ষাকারী সহায়তা অব্যাহত রাখার আহ্বানও জানান তিনি।
জলবায়ু মোকাবিলায় বিভিন্ন উদ্যোগ
বৈশ্বিক কার্বন নিঃসরণে বাংলাদেশের অবদান কম হলেও জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব দেশটিকে বহন করতে হচ্ছে বলে জানান প্রধানমন্ত্রী। কপ-৩১-এ জলবায়ু ন্যায়বিচার, অর্থায়ন ও অভিযোজন সহায়তায় আরও জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের প্রত্যাশা করেন তিনি।
তারেক রহমান জানান, আগামী পাঁচ বছরে ২৫ কোটি গাছ লাগানোর কর্মসূচি নেওয়া হয়েছে। বন্যা ও খরার ঝুঁকি মোকাবিলায় ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের কর্মসূচিও নেওয়া হয়েছে। সুন্দরবনে মিঠা পানির প্রবাহ বাড়ানো ও পানি সংরক্ষণে তিস্তা মহাপরিকল্পনা এবং ‘পদ্মা ব্যারাজ’ প্রকল্প বাস্তবায়নের উদ্যোগের কথাও জানান তিনি।