কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বাংলা উচ্চারণ নিয়ে শ্রেণিকক্ষে মন্তব্য করার অভিযোগে পুলিশ হেফাজতে থাকা প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছে পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১ অক্টোবর) সকালে ভেড়ামারা সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার দেলোয়ার হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে, বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে তাকে নিজ বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়।
দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান বলেন, “আমি নিজে পুলিশ ফোর্স নিয়ে তাকে সম্মানের সঙ্গে তার বাড়িতে পৌঁছে দিয়েছি।”
এদিকে, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহ্দী আমিন জানান, শিক্ষককে আটকের বিষয়টি জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী তাকে ছেড়ে দিয়ে নিরাপদে বাড়িতে পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশ দেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে প্রধানমন্ত্রী সংক্ষুব্ধ হন। পরে সংশ্লিষ্ট থানাকে শিক্ষককে সসম্মানে ছেড়ে দিয়ে নিরাপদে বাসায় পৌঁছে দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়।
মাহ্দী আমিন পোস্টে আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, মানুষের মধ্যে মতের ভিন্নতা থাকতেই পারে এবং প্রত্যেকের নিজস্ব দৃষ্টিভঙ্গি ও মতামত রয়েছে। কারও মতের সঙ্গে একমত না হলেও তার মতপ্রকাশের অধিকারকে সম্মান করা উচিত। ভিন্নমত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার প্রতি সম্মান গণতন্ত্রের শক্তি বলেও প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তুলে ধরেন তিনি।
এরও আগে, বুধবার বেলা ১১টার দিকে ভেড়ামারা-প্রাগপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সামনে থেকে শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে পুলিশ হেফাজতে নেয়। তিনি দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর পশ্চিমপাড়া এলাকার বাসিন্দা।
স্থানীয় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও বাসিন্দাদের অভিযোগ, মঙ্গলবার বিকেলে চলা বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির বাংলা ক্লাসে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া সাম্প্রতিক বাংলা ভাষণের প্রসঙ্গ ওঠে। এ সময় শিক্ষক লালন প্রধানমন্ত্রীর বাংলা উচ্চারণ নিয়ে মন্তব্য করেন। একপর্যায়ে তিনি প্রধানমন্ত্রীকে নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন বলেও অভিযোগ ওঠে।
বিষয়টি শিক্ষার্থীদের মাধ্যমে অভিভাবকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়লে বুধবার সকালে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে কয়েকজন অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দা জড়ো হয়ে শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। একপর্যায়ে সেখানে উত্তেজনা সৃষ্টি হলে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং শিক্ষক লালনকে থানায় নিয়ে যায়।