রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) জিএস সালাউদ্দিন আম্মারকে ইসলামী ছাত্রশিবির থেকে ‘বহিষ্কারের’ এক বছর পর সেই তথ্য প্রকাশ্যে আসায় বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা আলোচনা চলছে। আম্মারের শিবির-সংশ্লিষ্টতার বিষয়টি বুধবারের (৩০ সেপ্টেম্বর) আগে সংগঠনটি প্রকাশ্যে স্বীকার করেনি। সেদিন শিবির নেতারা জানান, আম্মার সংগঠনটির ‘সাথি’ ছিলেন এবং বিভিন্ন অভিযোগে ২০২৫ সালের ১১ সেপ্টেম্বর তাকে বহিষ্কার করা হয়।
বুধবার এ তথ্য প্রকাশ্যে আসার পর বিষয়টি নিয়ে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতারা নানা মন্তব্য করেছেন। তাদের কেউ কেউ অভিযোগ করছেন, আম্মারের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা তৈরি হওয়ার পর তাকে সংগঠন থেকে বিচ্ছিন্ন হিসেবে উপস্থাপনের রাজনৈতিক কৌশল হিসেবে বিষয়টি সামনে আনা হয়েছে। তবে ছাত্রশিবির বলছে, সংগঠনটির নিয়ম অনুযায়ী কাউকে বহিষ্কারের তথ্য প্রকাশ্যে জানানো হয় না এবং ভুলবশত একজন সাবেক নেতা চিঠিগুলো প্রকাশ করেছেন।
গত বছরের ১০ সেপ্টেম্বর রাকসু নির্বাচনে অংশ নিতে ‘আধিপত্যবিরোধী ঐক্য’ নামে একটি প্যানেল ঘোষণা করেছিলেন সাবেক সমন্বয়কেরা। ওই সময় সাংবাদিকেরা প্রশ্ন করেছিলেন, এটি শিবিরের ‘ডামি প্যানেল’ বা ‘ছায়া দল’ কি না। তখন সালাহউদ্দিন আম্মার বলেছিলেন, "আমার কাছে এই কথাগুলোকে অযাচিত বলে মনে হয়। কারণ আমার বিশ্বাস, শিবির কখনোই এমন কোনো প্যানেল গঠন করবে না যেটা তাদের নিজেদের নয়। তারা আলাদা প্যানেল দিয়েছে। আমরা আলাদা দিয়েছি। এখানে ‘ডামি’ বা ‘ছায়া দল’ হওয়ার কোনো সুযোগই নেই।"
ওই প্যানেলে ভিপি পদপ্রার্থী ছিলেন মেহেদী সজীব, যিনি পরে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা শিবিরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক হন।
তবে আম্মারের শিবির সম্পৃক্ততার তথ্য প্রকাশ্যে আসে এমন এক সময়ে, যখন রাকসুর বর্তমান কমিটির মেয়াদ প্রায় শেষের দিকে।
বিভিন্ন ছাত্র সংগঠনের নেতাদের অভিযোগ, আম্মারের সমালোচনামূলক কর্মকাণ্ডের কারণে ‘ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কৌশলের’ অংশ হিসেবে তাকে শিবির থেকে বহিষ্কারের বিষয়টি সামনে আনা হয়ে থাকতে পারে। তাদের প্রশ্ন, আম্মার নির্বাচিত হওয়ার আগেই যদি তাকে সংগঠন থেকে বহিষ্কার করা হয়ে থাকে, তাহলে জিএস হওয়ার পরও তার বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের সঙ্গে শিবিরের নেতাদের সমন্বয় কেন ছিল।
ছাত্রদল আম্মারকে শিবির থেকে বহিষ্কারের বিষয়টিকে ‘আইওয়াশ’ হিসেবে দেখছে। সংগঠনটির জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি শাকিলুর রহমান সোহাগ বলেন, "আম্মারকে শিবির থেকে বিচ্ছিন্ন দেখানোর চেষ্টা করা হলেও বাস্তবে তিনি সংগঠনটির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট। শিবিরের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়েছে, তার মানে এই নয় যে, আম্মার শিবির করেন না।"
তিনি আরও বলেন, "এটি তাদের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অংশ। শিক্ষার্থীদের কাছে তাকে ‘নিরপেক্ষ’ হিসেবে উপস্থাপন করার চেষ্টা হচ্ছে।"