ময়মনসিংহের সড়কে বাসচাপায় নিহত সিএনজি অটোরিকশার সাত আরোহীর দাফন সম্পন্ন হয়েছে। জামালপুর সদর উপজেলার দুই ইউনিয়নের বাসিন্দা নিহতরা নিজ নিজ গ্রামের পারিবারিক ও সামাজিক কবরস্থানে চিরশায়িত হয়েছেন।
শনিবার (৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার শরিফপুর ও রানাগাছা ইউনিয়নে তাদের শেষ বিদায় অনুষ্ঠিত হয়। এ ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয়রা জানান, নিহতদের চারজন একই পরিবারের। তাদের মধ্যে মোফাজ্জল হোসেন লেবু (৫৫) ও তার মা রাশিদা বেগমের (৮৫) জানাজা ও দাফন হয়েছে দড়িহামিদপুর ভাটিপাড়া গ্রামে। লেবুর অন্তঃসত্ত্বা মেয়ে মর্জিনা বেগম (২৫) ও তার পাঁচ বছর বয়সী ছেলে মিনানের জানাজা ও দাফন হয়েছে একই ইউনিয়নের গোড়ারকান্দা গ্রামে।
একই ইউনিয়নের গোবিন্দবাড়ি গ্রামে দাফন করা হয়েছে দুর্ঘটনাকবলিত সিএনজি অটোরিকশাটির চালক সুজন আলীকে (৩৪)।
এ ছাড়া শরীফপুর ইউনিয়নের বাদেচান্দি গ্রামে জানাজা শেষে আকরাম আলী (৪৮) ও তার স্ত্রী মমতা বেগমকে (৩৯) স্থানীয় সামাজিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
দাফনের সময় নিহতদের স্বজন ও স্থানীয়দের মধ্যে শোকাবহ পরিবেশের সৃষ্টি হয়। তারা অবিলম্বে রাজীব পরিবহনের বাস চলাচল বন্ধ করে দোষীদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানিয়েছেন।
নিহত আকরাম আলীর চাচাতো ভাই আব্দুল কাদের বলেন, "আমার ভাই ও তার স্ত্রী মারা যাওয়ায় পরিবারটা একেবারে ধ্বংস হয়ে গেল। অনেকদিন থেকেই রাজীব পরিবহনের বাসগুলো বেপরোয়া চলাচলের কারণে বহু প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। কিন্তু প্রশাসন থেকে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।"
তিনি দ্রুত বাসগুলো বন্ধ করে দেওয়ার দাবি জানান।
দড়িহামিদপুর এলাকার কাজল ব্যাপারি অভিযোগ করে বলেন, "একসঙ্গে সাতজনের মৃত্যু কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। রাজীব বাস অত্যন্ত খারাপ একটি পরিবহন। এই বাস রাস্তায় নামলেই দুর্ঘটনা ঘটে। পরিবহনের মালিকরা অল্প টাকায় অদক্ষ চালক দিয়ে বাস চালায়, যার কারণে এসব দুর্ঘটনা ঘটে।"
এর আগে শুক্রবার বেলা সোয়া ১টার দিকে ময়মনসিংহের আকুয়া বাইপাস এলাকায় জামালপুরগামী রাজীব পরিবহনের একটি বাসের সঙ্গে সিএনজিচালিত অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়।
দুর্ঘটনায় অটোরিকশা ও বাসের সামনের অংশ দুমড়ে-মুচড়ে যায়। এতে একই পরিবারের চারজন ও চালকসহ সাতজনের মৃত্যু হয়।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে পুলিশ ও ফায়ার সার্ভিসের কর্মীরা ঘটনাস্থলে গিয়ে উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে নিহতদের মরদেহ ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে গভীর রাতে মরদেহগুলো জামালপুরে আনা হয়।
দুর্ঘটনার পর জামালপুর থেকে ঢাকাগামী রাজীব পরিবহনের সব বাস চলাচল বন্ধ রয়েছে।