মুন্সীগঞ্জে কাজীকে অপহরণ করে চাঁদা আদায়, যুবদল নেতা গ্রেপ্তার

মুন্সীগঞ্জে বাড়ি থেকে মো. হাবিবুর রহমান নামে এক কাজীকে অপহরণ করে ২ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের অভিযোগে উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও জেলা ছাত্রদলের সাবেক সহসভাপতি রাজীব হাসান অপুসহ দুইজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার (৫ অক্টোবর) দিবাগত রাতে পঞ্চসার ইউনিয়নের মুক্তারপুর এলাকা থেকে যুবদল নেতা রাজীব হাসান অপু ও তার সহযোগী স্বপনকে গ্রেপ্তার করে সদর থানা পুলিশ।

পুলিশ ও অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, রবিবার দুপুরে কাটাখালীর বাসা থেকে বিয়ে পড়ানোর কথা বলে কাজী মো. হাবিবুর রহমানকে মুক্তারপুরে নিয়ে একটি কক্ষে আটকে রাখা হয়। পরে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে তার কাছে ২ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করা হয়।

নিজের প্রাণ রক্ষায় তিনি টাকা দিতে রাজি হন। পরে একটি ব্যাংক থেকে ২ লাখ টাকা উত্তোলন করেন। এরপর স্ত্রী নাসিমা বেগমের উপস্থিতিতে অভিযুক্তদের টাকা দেওয়ার পর তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। 

এ ঘটনায় সোমবার (৫ অক্টোবর) রাতে মুন্সীগঞ্জ থানায় যুবদল নেতা রাজীব ও সহযোগী স্বপন (৩৫) এবং কাটাখালী এলাকার সোহেল (৪৫) ও অজ্ঞাতনামা আরও ৪-৫ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করেন ভুক্তভোগী।

কাজী মো. হাবিবুর রহমানের ছেলে নাহিদ হাসান একটি জাতীয় দৈনিক পত্রিকার ডিজিটাল বিভাগের রিপোর্টার।

সাংবাদিক নাহিদ হাসান বলেন, “বিষয়টি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয়। আমাকে বলা হয়, আমরা যেন বিষয়টি মেনে নিই। ভবিষ্যতে তাদের লোকজন আমার বাবার কাজী অফিসের দিকে তাকাবে না। একইসঙ্গে মামলা করলে পরবর্তীতে কী হতে পারে, তা নিয়েও আমাকে ভয় দেখানো হয়। তবে আমি বিচারের জন্য মামলা করেছি। আমি কারও রাজনৈতিক পরিচয় নিয়ে কথা বলতে চাই না। আমি শুধু চাই আমার বাবাকে অপহরণ করে ভয় দেখিয়ে টাকা নেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, তার সুষ্ঠু তদন্ত হোক এবং দোষীদের বিচার করা হোক।”

গ্রেপ্তারের বিষয়টি নিশ্চিত করে সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. তছলিম উদ্দিন বলেন, “সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে রাজীব ও স্বপনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তাদের থানা থেকে দুপুরে আদালতে পাঠানো হয়েছে।”

এদিকে, এ ঘটনার পর নৈতিক স্খলনজনিত অপরাধে মুন্সীগঞ্জ সদর উপজেলা যুবদলের রাজিব হাসান অপুকে প্রাথমিক সদস্য পদ থেকে বহিস্কার করেছে কেন্দ্রীয় যুবদল।