সুনামগঞ্জে মাইকে ঘোষণা দিয়ে সংঘর্ষ, আহত ২০

সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মাইকে ঘোষণা দিয়ে দুদল গ্রামবাসীর সংঘর্ষে উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হয়েছেন। এদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর।

বুধবার (৭ সেপ্টেম্বর) সকালে তাহিরপুর উপজেলার বীরনগর, জয়নগর, লক্ষ্মীপুর ধূতমা গ্রামবাসীর সঙ্গে ময়মনসিংহা হাটির লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

এ সময় উভয় পক্ষের লোকজন তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের মধ্যতাহিরপুর এলাকায় দেশীয় অস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। ঘণ্টাব্যাপী সংঘর্ষে সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকে। এ সময় কয়েকটি বাড়িঘরে হামলার ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয়রা জানায়, তিনদিন আগে বীরনগর গ্রামের এক ইজিবাইক চালককে তুচ্ছ ঘটনার জেরে মারধর করে ময়মনসিংয়া হাটির কয়েকজন যুবক। মারধরের শিকার ইজিবাইক চালক চার গ্রামের লোকজনকে ঘটনাটি জানালে তাদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার পর বাজারের কয়েকটি দোকানঘরে হামলার ঘটনা ঘটে।

তাহিরপুর সদর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জুনাব আলী জানান, উভয় পক্ষের বিপুল সংখ্যক লোকজন সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ে। এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন রয়েছে।

এর আগে, মঙ্গলবার রাতে বীরনগর গ্রামের মসজিদের মাইকে পূর্বঘোষণা দিয়ে বীরনগর ধূতমা জয়নগর, লক্ষ্মীপুর  গ্রামবাসীকে স্কুলের মাঠে জড়ো হওয়ার আহ্বান জানান অজ্ঞাত পরিচয় যুবক। ঘোষণার পর বুধবার সকালে চার গ্রামের লোকজন সড়কে জড়ো হয়ে ময়মনসিংহা হাটির লোকজনের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হন। 

সংঘর্ষে বীরনগর গ্রামের আশিক মিয়া (৩০), রেজাউল হক (৩৭) ও মাইনুদ্দিন (৪১) দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন। ইটপাটকেল নিক্ষেপে পথচারীসহ উভয় পক্ষের ২০ জন আহত হন। তারা স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা নিয়েছেন।

তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নাসাদ আহমদ বলেন, “তিনজন দেশীয় অস্ত্রের আঘাতে গুরুতর আহত হন। আহতদের প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।”

তাহিরপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ফারুক আহমেদ বলেন, “আহতদের সঠিক সংখ্যা এখন বলা যাচ্ছে না। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে বেশ কয়েক রাউন্ড টিয়ার সেল ও ফাঁকা গুলিবর্ষণ করে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়ন করা হয়েছে। সেখানে পৃথক তিনটি দল অবস্থান করছে।”