অগ্রণী ব্যাংকের গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা লোপাট: শ্রীনগর শাখার ব্যবস্থাপকসহ গ্রেপ্তার ৫

মুন্সীগঞ্জের শ্রীনগরে অগ্রণী ব্যাংকের শাখায় গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের ঘটনায় ব্যবস্থাপকসহ পাঁচ কর্মকর্তা-কর্মচারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

বুধবার (৭ অক্টোবর) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ব্যাংকের ভেতর থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ নিয়ে ঘটনায় মোট ছয়জন গ্রেপ্তার হলেন।

গ্রেপ্তারকৃত ব্যক্তিরা হলেন অগ্রণী ব্যাংক শ্রীনগর শাখার ব্যবস্থাপক শরীফউদ্দিন (৩৯), সাবেক ক্যাশ অফিসার মো. জিন্নাহ হোসেন (৩৪), বেসরকারি নিরাপত্তারক্ষী রঞ্জু আহমেদ (৩০) ও আব্দুল হাই (৪২) এবং ব্যাংকটির দীঘিরপাড় শাখার ব্যবস্থাপক রেজাউল হক (৪২)।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. কামরান হোসেন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ব্যাংকের শ্রীনগর শাখায় দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) একটি দল তদন্ত চালায়। তদন্ত শেষে বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে ওই পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের সবাইকে ফৌজদারি কার্যবিধির ৫৪ ধারায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে বলেও জানান তিনি।

এর আগে ২৯ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে রাজধানীর মিরপুরের মধ্য পাইকপাড়া এলাকা থেকে শ্রীনগর শাখার সিনিয়র সহকারী ম্যানেজার শরীফুজ্জামান সোহাগকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

আত্মসাৎ হওয়া টাকার পরিমাণ নির্ধারণে অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয় থেকে তিন সদস্যের একটি অডিট টিম গঠন করা হয়েছে, যাদের কাজ এখনো চলছে। বিভিন্ন গণমাধ্যমে আত্মসাতের পরিমাণ নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন তথ্য প্রকাশিত হলেও অডিট শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রকৃত অঙ্ক নিশ্চিত করা যাচ্ছে না।

প্রতারণার মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ দুদকের তফসিলভুক্ত অপরাধ হওয়ায় সংস্থাটিও বিষয়টি তদন্ত করছে। মুন্সীগঞ্জ পুলিশ জানায়, আত্মসাৎ হওয়া অর্থের প্রকৃত পরিমাণ, টাকার অবস্থান এবং এতে অন্য কারও সংশ্লিষ্টতা আছে কি না, তা তদন্ত ও অডিটে বেরিয়ে আসবে।

সম্প্রতি অগ্রণী ব্যাংকের শ্রীনগর বাজার শাখায় শতাধিক গ্রাহকের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে লাপাত্তা হন সিনিয়র সহকারী ম্যানেজার শরীফুজ্জামান সোহাগ। তার আত্মগোপনের পর গ্রাহকদের মধ্যে উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনা জানাজানি হলে ২২ সেপ্টেম্বর থেকে ব্যাংকে ভিড় করতে থাকেন গ্রাহকেরা। টাকা ফেরত পেতে ভুক্তভোগীরা এরপর থেকে মানববন্ধন ও মিছিল করে আসছেন।