কর্মস্থলে যাওয়ার পথে নিখোঁজ হওয়া সুনামগঞ্জের ধর্মপাশার অবসরপ্রাপ্ত সেনাসদস্য মোহাম্মদ ফজলুর রহিম কাজলের (৬০) মরদেহ নেত্রকোনার মোহনগঞ্জে একটি গাছের ডালে বসা অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ।
শুক্রবার (৯ অক্টোবর) সকালে মোহনগঞ্জ উপজেলার বিরামপুর গ্রামের শ্মশান ঘাট-সংলগ্ন একটি গাছ থেকে গলায় রশি পেঁচানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরির পর মৃত্যুর কারণ জানতে মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য নেত্রকোণা সদর হাসপাতালে পাঠিয়েছে মোহনগঞ্জ থানা পুলিশ।
ফজলুর রহিম কাজল ধর্মপাশা উপজেলার সেলবরষ ইউনিয়নের কাকিয়াম গ্রামের বাসিন্দা। তিনি নওধার সৌরবিদ্যুৎ প্লান্টে কর্মরত ছিলেন।
পরিবার জানায়, গত বুধবার (৭ অক্টোবর) সকালে কর্মস্থলে যাওয়ার কথা বলে বাড়ি থেকে বের হন কাজল। রাতে বাড়ি না ফেরায় স্বজনরা তার মোবাইলে ফোন দিয়ে সেটি বন্ধ পান। আত্মীয়স্বজনের কাছে খোঁজ নিয়েও কোনো সন্ধান মেলেনি। গ্রামসহ আশপাশের এলাকায় অনেক খোঁজাখুঁজির পর ধর্মপাশা থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন তারা।
জিডিতে তার উচ্চতা আনুমানিক ৫ ফুট ১০ ইঞ্চি, গায়ের রং শ্যামলা, মুখমণ্ডল লম্বাটে, চাপদাড়ি এবং মাথার চুল ছোট ও পাকা বলে উল্লেখ করা হয়। বাড়ি থেকে বের হওয়ার সময় তার পরনে ছিল শার্ট-প্যান্ট।
কাজলের ছেলে পুলিশ সদস্য মাহমুদুল হাসান রাহুল বলেন, “গাছের ডালে বসা অবস্থায় গলায় রশি পেঁচানো থাকাটা অস্বাভাবিক।“ তার পরিবারের সন্দেহ, কেউ হত্যা করে মরদেহ গাছে ঝুলিয়ে রাখতে পারে। ঘটনাস্থলের আশপাশের অবস্থা দেখে তিনি এমনটি মনে করছেন। তার ভাষ্য, গাছে মরদেহ যেভাবে আটকে ছিল, তা স্বাভাবিক নয়। ময়নাতদন্তের পরই মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে বলে তিনি আশা করছেন।
রাহুল জানান, ৭ অক্টোবর দুপুর ১২টায় বাবার সঙ্গে তার শেষ কথা হয়। ছুটি কাটিয়ে গ্রামের বাড়ি কাকিয়াম থেকে সিলেট জেলা পুলিশ লাইনে কর্মস্থলে যাওয়ার কথা জানালে বাবা তাকে বলেছিলেন, “ঠিক আছে বাবা, যাও।” এরপর থেকে বাবার মোবাইল বন্ধ পান তিনি।
ওই দিন দুপুর ২টার দিকে ধর্মপাশা বাজারে এক ইজিবাইকচালক গাড়ির সিটে কাজলের মানিব্যাগ পান। ব্যাগে থাকা কাগজে লেখা নম্বর দেখে রাহুলকে ফোন করে তিনি বিষয়টি জানান। এ ছাড়া ওই দিন দুপুরে ধর্মপাশাগামী একটি অটোরিকশায় কাজলকে দেখেছিলেন তাদের এক স্বজন।
ধর্মপাশা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) মোহাম্মদ জহিরুল ইসলাম বলেন, “নিখোঁজের খবর পাওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে বেতারবার্তা পাঠিয়ে এবং নানা জায়গায় অনুসন্ধান চালিয়েও তার খোঁজ পাওয়া যায়নি। শুক্রবার পার্শ্ববর্তী নেত্রকোণার মোহনগঞ্জের বিরামপুর গ্রামে গাছ থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।“
কাজল দুই ছেলের জনক। বড় ছেলে মাহমুদুল হাসান রাহুল সিলেট জেলা পুলিশ লাইনে কর্মরত, ছোট ছেলে মারুফ হাসান গ্রামের বাড়িতে থেকে পড়াশোনা করেন।