বগুড়ায় রিপন সরেন (৪৫) নামে এক ইটভাটা শ্রমিককে চোর সন্দেহে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে করে গ্রামের বাড়ি পাঠানো হলেও স্বজনরা হত্যা সন্দেহে ফেরত পাঠিয়েছেন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকালে সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, আদিবাসী শ্রমিকের মরদেহ উদ্ধার করে বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ (শজিমেক) হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।
এর আগে, শুক্রবার (৯ অক্টোবর) রাতে সদর উপজেলার লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের চন্ডিহারা চাঁনপাড়ায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয়রা জানান, রিপন সরেন দিনাজপুরের ঘোড়াঘাট উপজেলার বামনপাড়া গ্রামের মৃত মেসো সরেনের ছেলে। তিনি বগুড়া সদর উপজেলার লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের চন্ডিহারা চাঁনপাড়ায় একটি ইটভাটার শ্রমিক ছিলেন। স্থানীয় রেজাউল নামে এক ব্যবসায়ীর দোকান থেকে ঢালাই মেশিন চুরি হয়। এ জন্য সরেনকে সন্দেহ করা হয়।
শুক্রবার সন্ধ্যায় কয়েকজন রিপন সরেনকে মারপিট করেন। পরে তাকে ২০,০০০ টাকা জরিমানা বা মেশিন ফেরতের শর্ত দেওয়া হয়েছিল। পরে ইটভাটার শ্রমিকদের শয়ন ঘরে রিপনের মরদেহ পাওয়া যায়।
এদিকে, শুক্রবার রাতে স্বাভাবিক মৃত্যু হিসেবে রিপন সরেনের মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে তুলে তার দিনাজপুরের বাড়িতে পাঠিয়ে দেওয়া হয়। কিন্তু লাশে আঘাতের চিহ্ন থাকায় পরিবারের লোকজন গ্রহণ করতে অস্বীকৃতি জানান। বাধ্য হয়ে অ্যাম্বুলেন্স চালক মরদেহ বগুড়ায় ফেরত আনেন। ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকাবাসীর মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়।
বগুড়া সদর থানার ইন্সপেক্টর (তদন্ত) মাহফুজ আলম জানান, নিহত আদিবাসী রিপন সরেন লাহিড়ীপাড়া ইউনিয়নের চন্ডিহারা চাঁনপাড়ার জনৈক ডিউকের ইটভাটার শ্রমিক ছিলেন। চোর সন্দেহে তাকে শাসন ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছিল। পরে তার মৃত্যু হলে মরদেহ অ্যাম্বুলেন্সে গ্রামের বাড়িতে পাঠানো হয়। সেখানে হত্যা সন্দেহ হলে লাশ ফেরত পাঠিয়ে দেওয়া হয়।
শনিবার বিকালে মরদেহ উদ্ধার করে বগুড়া শজিমেক হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পাওয়ার পর এটি হত্যা না স্বাভাবিক মৃত্যু সে ব্যাপারে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ ব্যাপারে মামলা হয়নি।