আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজা নির্বিঘ্নে ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপনে তিন স্তরের নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে পুলিশ। পূজার আগে, পূজা চলাকালে এবং প্রতিমা বিসর্জন ও পূজা-পরবর্তী সময়ে এ নিরাপত্তাব্যবস্থা কার্যকর থাকবে বলে জানিয়েছেন পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকির।
রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে পুলিশ সদর দপ্তরের হল অব প্রাইডে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা ও নিরাপত্তাবিষয়ক সভায় সভাপতিত্বকালে তিনি এ কথা বলেন।
আইজিপি বলেন, ‘‘পূজাকে কেন্দ্র করে কোনো মহল বা গোষ্ঠী যাতে সামাজিক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সজাগ ও সতর্ক থাকতে হবে।’’
এ ক্ষেত্রে কমিউনিটি ও বিট পুলিশিংয়ের মাধ্যমে জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি। সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় এবারও নিরাপদ ও আনন্দঘন পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন আইজিপি।
পূজাকে কেন্দ্র করে যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে পুলিশ প্রস্তুত রয়েছে বলে সভায় জানানো হয়। জরুরি প্রয়োজনে জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ অথবা নিকটস্থ থানায় যোগাযোগ করতে পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের অনুরোধ জানান তিনি।
পূজামণ্ডপ ও বিসর্জনস্থলে সিসিটিভি সচল রাখা, পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা এবং স্ট্যান্ডবাই জেনারেটর প্রস্তুত রাখার আহ্বান জানানো হয়। প্রতিটি মণ্ডপে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করে সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেও পূজা উদযাপন পরিষদের নেতাদের আহ্বান জানানো হয়েছে।
দুর্গাপূজায় অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় পোশাকধারী ও সাদাপোশাকের পুলিশের পাশাপাশি সোয়াট, ক্রাইম রেসপন্স টিম (সিআরটি), কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি), ক্রাইম সিন ভ্যান ও বোমা নিষ্ক্রিয়করণ ইউনিট সার্বক্ষণিক প্রস্তুত থাকবে। এ ছাড়া পুলিশ সদর দপ্তরসহ অন্যান্য পুলিশ ইউনিটে সার্বক্ষণিক পর্যবেক্ষণ সেল চালু থাকবে।
সভায় অতিরিক্ত আইজি (প্রশাসন) এ কে এম আওলাদ হোসেন, এসআরইউর অতিরিক্ত আইজি মো. রেজাউল করিম, ডিএমপি কমিশনার মোসলেহ উদ্দিন আহমদ, নৌ পুলিশের অতিরিক্ত আইজি মো. রেজাউল করিম, এসআরবির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত আইজি) মো. আহসান হাবীব পলাশ, ট্যুরিস্ট পুলিশের অতিরিক্ত আইজি জি এম আজিজুর রহমান, অতিরিক্ত আইজি (ক্রাইম অ্যান্ড অপস) মো. সায়েদুর রহমান, রেলওয়ে পুলিশের অতিরিক্ত আইজি (ভারপ্রাপ্ত) ব্যারিস্টার মো. জিল্লুর রহমান, হাইওয়ে রেঞ্জের অতিরিক্ত আইজি ফারুক আহমেদ ও এসবি প্রধান (অতিরিক্ত আইজি) মো. কামরুল আহসান প্রমুখ।
এ ছাড়া হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্ট, বাংলাদেশ হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদ, বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, বিএনপি, পূজা উদযাপন ফ্রন্ট, রমনা কালীমন্দির, রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশন এবং মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির প্রতিনিধিরা সভায় অংশ নেন।
সভায় মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি, জেলার পুলিশ সুপার ও নৌ পুলিশের পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি যুক্ত ছিলেন।