রাঙ্গামাটির বাঘাইছড়ির পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে ৪৮ ঘণ্টার জন্য অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন আন্দোলনকারীরা। প্রশাসনের কাছে তিন দফা দাবি জানিয়ে রবিবার (১১ অক্টোবর) এ সিদ্ধান্তের কথা জানান সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির নেতারা।
এদিকে, পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র সাময়িকভাবে বন্ধ ঘোষণা করেছে রাঙ্গামাটি জেলা প্রশাসন।
রবিবার (১১ অক্টোবর) জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে জারি করা এক জরুরি গণবিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ১১ অক্টোবর সন্ধ্যা ৬টা থেকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সাজেক ভ্যালি পর্যটনকেন্দ্র বন্ধ থাকবে। একই সঙ্গে সাজেকে অবস্থানরত পর্যটকদের ১৩ অক্টোবর বিকেল ৫টার মধ্যে সাজেক ত্যাগ করে নিজ নিজ গন্তব্যে নিরাপদে ফিরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এর আগে, রবিবার সকালে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে সাজেক-দীঘিনালা সড়কে অনির্দিষ্টকালের অবরোধ শুরু হয়। সড়কের গঙ্গারাম উজোর বাজারসহ বিভিন্ন স্থানে টায়ার জ্বালিয়ে পিকেটিং করেন অবরোধকারীরা। এতে সাজেক ও বাঘাইছড়ি থেকে দীঘিনালাগামী যানবাহন চলাচল ব্যাহত হয়। ভোগান্তিতে পড়েন পর্যটক ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটির সদস্যসচিব বিজয় কান্তি চাকমা বলেন, ‘‘প্রশাসনের কাছে তিন দফা দাবি জানিয়ে আগামী ৪৮ ঘণ্টার জন্য অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে।’’
তাদের দাবিগুলো হলো, ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জেএসএসের সশস্ত্র সদস্যদের সরিয়ে নিতে হবে, কাউকে মৃত্যুর হুমকি দেওয়া যাবে না এবং নিরাপত্তা বাহিনী সাধারণ মানুষের ঘরবাড়ি তল্লাশি করতে পারবে না।
সাজেক রিসোর্ট অ্যান্ড কটেজ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহুল চাকমা জন বলেন, ‘‘সাজেকে আটকে থাকা পর্যটকেরা বিকেলে খাগড়াছড়ির উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। সন্ধ্যার দিকে নতুন পর্যটকেরাও সাজেকে প্রবেশ করেছেন।’’
রাঙ্গামাটির অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইকবাল হোসাইন অবরোধের ঘটনা ও পরবর্তী পরিস্থিতির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।