৪ ঘণ্টার চেষ্টায় টঙ্গীতে ওষুধ কারখানার আগুন নিয়ন্ত্রণে

গাজীপুরের টঙ্গী চেরাগ আলী এলাকায় ড্রাগ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড নামের ওষুধ কারখানায় লাগা আগুন নিয়ন্ত্রণে এসেছে বলে জানিয়েছে ফায়ার সার্ভিস।

বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে কারখানাটিতে আগুনের সূত্রপাত হয়। দুপুর নাগাদ ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিটের প্রায় চার ঘণ্টার চেষ্টায় দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

বুধবার দুপুর ২টা ১০ মিনিটে ঘটনাস্থলে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ফায়ার সার্ভিসের মহাপরিচালক (ডিজি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সুলতানুল আফরীন জুনাইদ।

মহাপরিচালক সুলতানুল আফরীন জুনাইদ বলেন, “প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জরুরি ভিত্তিতে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করা হয়। ফায়ার সার্ভিসের ২০টি ইউনিটের চেষ্টায় দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে। তবে আগুন পুরোপুরি নেভাতে আরও সময় লাগবে। কারখানার সাততলা ভবনের চতুর্থ ও দ্বিতীয় তলায় আগুন লাগে। ইনজেকশনসহ জরুরি ওষুধে আগুন লাগায় শ্বাসকষ্টের সমস্যা তৈরি হয়। এ ঘটনায় কোনও হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে ফায়ার সার্ভিসের একজন কর্মী শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয়েছেন। তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করা হয়েছে। ”

তিনি জানান, কারখানাটি টঙ্গী শিল্প এলাকার স্কুইব রোডে অবস্থিত। বুধবার সকাল সোয়া ১০টার দিকে কারখানার ইউনিট-২-এর সাততলা ভবনের চতুর্থ তলায় আগুনের সূত্রপাত হয়। প্রথমে কারখানার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আগুন নেভানোর চেষ্টা করেন কর্মীরা। কিন্তু আগুনের তীব্রতা বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। পরে ফায়ার সার্ভিসকে খবর দেওয়া হয়। 

খবর পেয়ে টঙ্গী ফায়ার স্টেশন থেকে তিনটি, উত্তরা ফায়ার স্টেশন থেকে তিনটি, গাজীপুর চৌরাস্তা মডার্ন থেকে চারটি এবং কুর্মিটোলা ফায়ার স্টেশন থেকে চারটি ইউনিটসহ রাজেন্দ্রপুর এবং পূর্বাচল থেকেও কয়েকটি ইউনিট পাঠানো হয়। এছাড়া মিরপুর থেকে একটি হ্যাজম্যাট টেন্ডার (রাসায়নিক উপাদানজনিত দূর্ঘটনা মোকাবিলায় ব্যবহৃত হয়) আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে যুক্ত হয়। আগুন নেভানোর কাজে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) সদস্যরাও যোগ দেন। আগুনের ঘটনায় কারখানার আশপাশের প্রায় দুই কিলোমিটার এলাকায় গণপরিবহন চলাচল ও স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হয়।

ড্রাগ ইন্টারন্যাশনালের ব্যবস্থাপক শফিকুল ইসলাম বাদল জানান, কারখানার নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করা হয়েছিল। তবে আগুনের তীব্রতার কারণে পরিস্থিতি সামাল দিতে ফায়ার সার্ভিসসহ সংশ্লিষ্ট বাহিনীর সহায়তা নিতে হয়।