ষষ্ঠীর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় শারদীয় দুর্গোৎসবের মূল আনুষ্ঠানিকতা।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) উৎসবমুখর পরিবেশে অনুষ্ঠিত হচ্ছে মহাসপ্তমী বিহিত পূজা। ঢাকের বাদ্যবাজনা, মন্ত্রপাঠ, কাঁসর ঘণ্টা, শঙ্খধ্বনি আর উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ৬২৮টি পূজামণ্ডপ।
মহাসপ্তমীতে শাস্ত্রমতে ষোড়শ উপাচারে (অথাৎ ষোলটি উপাদানে) দুর্গা দেবীর পূজা হচ্ছে। এর মধ্যে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার প্রাণ প্রতিষ্ঠা, চক্ষুদান, স্নান, বস্ত্রদান প্রদান করা হয়।
তিথি অনুসারে একই সঙ্গে দশভূজা দেবীকে আসন, নৈবেদ্য, বিল্লপত্র, তুলসি, আতপ চাল, তিল হরতকি, পুষ্পমাল্য ও চন্দন নিবেদন করা হয়। পূজা শেষে দুর্গা মায়ের রাতুল চরণে পুষ্পাঞ্জলী প্রদান করেন ভক্তরা।
মহাসপ্তমীতে ব্রাহ্মণবাড়িয়া শহরের কালাইশ্রীপাড়া টাউন সার্বজনীন দুর্গাপূজা মণ্ডপে উপস্থিত ভক্ত রাখেশ রায়, বিথি সহা, শ্রাবনী চক্রবর্তী ও শীপ্রা বিশ্বাস জানান, দুর্গা মায়ের কাছে নিজের পরিবারের পাশাপাশি দেশ ও জাতির কল্যানে বিশেষ প্রার্থনা করা হয়।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া দক্ষিণ কালীবাড়ী মন্দিরের পুরোহিত অচির্ন্ত্য চক্রবর্তী জানান, রাজা সুরথ রাজ্য ফিরে পাওয়ার আশায় বসন্তকালে যে পূজা করেছিলেন তাকে বাসন্তী পূজা হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়। অন্যদিকে ত্রেতা যুগে প্রভু রামচন্দ্র রাবনকে বধ করার জন্যে শরৎকালে যে পূজা করেছিলেন তাকে অকাল বোধন এবং শারদীয় দুর্গোৎসব হিসেবে আখ্যায়িত করা হয়।
তিনি জানান আজ ভক্তরা পুস্পাঞ্জলি প্রদান করেছেন। তারা মায়ের কাছে মনোবাঞ্ছনা পূর্ণ করার জন্যে নিজের পরিবার জন্যে প্রার্থনা করেছেন। পাশাপাশি দেশের সব মানুষ যেন এক সাথে শান্তিতে বসবাস করতে পারে সে জন্যে বিশেষ প্রার্থনা করেছেন।
এদিকে দুর্গাপূজাকে শান্তিপূর্ণ করার লক্ষে পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে প্রতিটি পূজামণ্ডপে সর্বোচ্চ নিরাপত্তার ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া পুলিশ সুপার মু. জালাল উদ্দিন ফাহিম জানান, প্রতিটি পূজামণ্ডপে সাদা পোষাকে পুলিশ সদস্যদের পাশাপাশি আনসার, পুলিশ, এসআরবি সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন। এছাড়া যে কোন অ ঘটনা মোকাবেলায় বিজিবিকে প্রস্তুত রাখা হয়েছে।