কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে বাউল সাধক ফকির লালন শাহের মাজারের প্রবেশপথের পাশ থেকে পেট্রোলভর্তি বোতল ও ধাতব ক্যানিস্টারসহ উদ্ধার করা সরঞ্জামগুলো একটি ‘সময় নিয়ন্ত্রিত বোমা’ বা টাইমার যুক্ত ডিভাইস বলে নিশ্চিত করেছে পুলিশ। মতিঝিলে মেট্রো স্টেশনের নিচে গত জুলাই মাসে পাওয়া বোমাটিতেও একই ধরণের প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল বলে জানিয়েছে কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি) ইউনিট।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ঢাকা থেকে পুলিশের বোমা নিষ্ক্রিয় দলের (এসআরইউ) সদস্যরা ঘটনাস্থলে এসে বোমা সদৃশ বস্তুগুলো নিষ্ক্রিয় করেন।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, রবিবার রাত ১২টার পর মাজারের প্রবেশপথের ডান পাশের একটি নারকেলগাছের নিচে একটি সন্দেহজনক ব্যাগ দেখে খবর দেওয়া হয়। নিরাপত্তার স্বার্থে তাৎক্ষণিকভাবে স্থানটি ঘিরে ফেলে মাজারে আগত সাধু ও দর্শনার্থীদের নিরাপদ দূরত্বে সরিয়ে নেয় পুলিশ।
পরবর্তীতে ঢাকা থেকে সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের পরিদর্শক মোদাচ্ছের কায়সারের নেতৃত্বে চার সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তল্লাশি চালিয়ে তারা দুটি ছোট বোতল ভরা পেট্রোল, আধা ইঞ্চি চওড়া ও চার ইঞ্চি লম্বা দুটি ধাতব ক্যানিস্টার এবং বিদ্যুতের তার ও টাইমার যুক্ত একটি ডিভাইস উদ্ধার করে তা নিষ্ক্রিয় করে।
সিটিটিসির বোমা নিষ্ক্রিয়করণ দলের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা সংবাদ মাধ্যমকে জানান, উদ্ধার করা ডিভাইসটি একটি ‘টাইম ইনিশিয়েটেড বোম্ব’। বিস্ফোরক হিসেবে সৌখিন পার্টিতে ব্যবহৃত স্মোক বোম্বের অ্যালুমিনিয়াম ক্যানিস্টার ব্যবহার করা হয়েছিল, যার সঙ্গে সময় নির্ধারণের জন্য একটি টাইমার ও ব্যাটারি যুক্ত ছিল। বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ড ঘটানোর উদ্দেশ্যে এর সঙ্গে দুটি পেট্রোলভর্তি বোতল রেখে দেওয়া হয়েছিল।
প্রযুক্তির মিলের কথা উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, গত ২৬ জুলাই মতিঝিল মেট্রো স্টেশনের নিচে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের ‘উল্টো রথযাত্রার’ পথে ছাতার ভেতর যে বোমা পাওয়া গিয়েছিল, তার কারিগরি কৌশলের সঙ্গে এটির ব্যাপক মিল রয়েছে। তবে মেট্রো স্টেশনের বোমাটিতে জিআই পাইপ ব্যবহার করা হলেও কুষ্টিয়ায় অ্যালুমিনিয়াম ক্যানিস্টার ব্যবহার করা হয়েছে। বিষয়টি কোনো অপেশাদার বা আনাড়ি দলের কাজ হতে পারে বলে ধারণা করা হলেও, এই ধরনের প্রযুক্তি ছড়িয়ে পড়াকে বড় ধরনের নিরাপত্তাসঙ্কট বলে মনে করছেন তারা।
উল্লেখ্য, এই ডিভাইসটি কারা বা কোনো গোষ্ঠী মাজার প্রাঙ্গণে রেখে গেছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করতে পারেনি পুলিশ। পূর্বের মতিঝিলের ঘটনায় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গিদল নব্য জেএমবির সদস্য নাজমুল হাসান মামুন ওরফে ‘বোমারু মামুন’ জড়িত বলে জানিয়েছিল পুলিশ। সে সময় মামুনের এক সহযোগীকে গ্রেপ্তার করা সম্ভব হলেও প্রধান অভিযুক্ত মামুন এখনো পলাতক রয়েছে। তবে লালন শাহের মাজারের ঘটনায় জড়িতদের চিহ্নিত করতে তদন্ত শুরু করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।