টঙ্গীতে বকেয়া বেতনের দাবিতে গার্মেন্টস শ্রমিকদের সড়ক অবরোধ

গাজীপুরের টঙ্গীর খাপড়া এলাকায় এক মাসের বকেয়া বেতন পরিশোধের দাবিতে লাকি স্টার গার্মেন্টস শ্রমিকরা বিক্ষোভ করেছেন।

সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল থেকে কাজে যোগ না দিয়ে তারা আন্দোলনে নামেন শ্রমিকরা। একপর্যায়ে আঞ্চলিক সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ করেন তারা ।

তাদের অভিযোগ, কোনো ধরনের আগাম নোটিশ ছাড়াই বকেয়া বেতন পরিশোধ না করে কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।

শ্রমিকদের দাবি, গত ১৩ অক্টোবর তাদের বেতন দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময়ে বেতন না দিয়ে কয়েক দফায় তারিখ পরিবর্তন করা হয়। সোমবার সকালে প্রতিদিনের মতো কাজে যোগ দিতে এসে কারখানার প্রধান ফটকে বন্ধের নোটিশ দেখতে পান তারা। এ সময় কারখানা বন্ধের বিষয়ে তাদের আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি।

কারখানার অপারেটর জুয়েল হোসেন বলেন, “১৩ তারিখে বেতন দেওয়ার কথা ছিল। এরপর কয়েক দিন ধরে শুধু ঘোরানো হয়েছে। সকালে কাজে এসে দেখি, প্রধান ফটকে নোটিশ ঝুলছে। আমাদের বেতন পরিশোধ না করেই কারখানা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।”

আরেক অপারেটর মনোয়ার হোসেন বলেন, “বেতন না পেলে সন্তানদের নিয়ে কীভাবে বাঁচব? ঘরভাড়া দেব কীভাবে, মুদি দোকানের বকেয়া টাকা কীভাবে পরিশোধ করব? প্রতিমাসেই বেতন নিয়ে এভাবে ঘোরাঘুরি করতে হয়। কাজ করেও সময়মতো নিজেদের পাওনা পাচ্ছি না।”

অপারেটর রোজিনা বলেন, “আমাদের বেতন পরিশোধ না করা পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাব। আমরা আমাদের ন্যায্য পাওনা চাই। বেতন না পাওয়া পর্যন্ত আন্দোলন থেকে সরে আসব না।”

শ্রমিকদের অভিযোগ, কারখানাটিতে বকেয়া বেতন পরিশোধ না করে এবং শ্রমিকদের আগাম অবহিত না করে কারখানা বন্ধ করে দেওয়ায় তারা চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছেন। শ্রমিকদের পাওনা পরিশোধ ও শ্রম আইন মেনে চলার ক্ষেত্রে কারখানা কর্তৃপক্ষের আরও দায়িত্বশীল হওয়া প্রয়োজন।  শ্রম আইন অনুযায়ী প্রাপ্য অধিকার থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছেন।

এই কারখানার জিএম শামসুদ্দিন জানান, আমরা শিপমেন্ট করতে পারছি না। ব্যাংক থেকে টাকাও পাচ্ছি না। যে কারণে আমাদের তিনটি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। তবে চেষ্টা চলছে শ্রমিকদের বেতন পরিশোধ করার জন্য।

এদিকে শ্রমিকদের বিক্ষোভের বিষয়ে শিল্প পুলিশ পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে কাজ করছে। শিল্প পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর হক বলেন, “শ্রমিকদের সঙ্গে এবং মালিকপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা চলছে।”