সাজেকে ইউপিডিএফ ও জেএসএসের মধ্যে থেমে থেমে গোলাগুলি, আতঙ্কে স্থানীয়রা

রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেক ইউনিয়নে পাহাড়ের দুটি আঞ্চলিক সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট (ইউপিডিএফ-প্রসীত) ও জনসংহতি সমিতির (জেএসএস-সন্তু লারমা) মধ্যে থেমে থেমে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে।

শনিবার (৩১ অক্টোবর) দুপুরে ইউনিয়নের দুর্গম কলাবুনিয়া ও থাল কুম্ভ এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে এ ঘটনা ঘটেছে বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এতে এলাকাবাসীর মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তবে হতাহতের কোনো খবর এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) তোফাজ্জল হোসেন জানান, শনিবার দুপুর ১২টা থেকে ১টা পর্যন্ত কলাবুনিয়া এলাকায় ঘণ্টাব্যাপী থেমে থেমে গোলাগুলি হয়। ঘটনাস্থল থানা থেকে প্রায় ২০ কিলোমিটার দূরে দুর্গম এলাকায় অবস্থিত। এ পর্যন্ত হতাহতের কোনো খবর পাওয়া যায়নি বলে তিনি জানান। রাঙামাটির পুলিশ সুপার মুহম্মদ আবদুর রকিব গোলাগুলির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে তার ভাষ্য অনুযায়ী, গোলাগুলি হয়েছে দুপুর ১টা থেকে পৌনে ২টা পর্যন্ত।

গোলাগুলিতে জেএসএসের সম্পৃক্ততা অস্বীকার করেছেন সংগঠনটির তথ্য ও প্রচার সম্পাদক সজীব চাকমা। তিনি জানান, গোলাগুলির কোনো খবর এখনো তার কাছে আসেনি এবং এসব ঘটনায় জেএসএসের জড়িত থাকার প্রশ্নই আসে না। ইউপিডিএফের মুখপাত্র অংগ্য মারমার বক্তব্য জানতে মোবাইলে ফোন করা হলে সেটি বন্ধ পাওয়া যায়। হোয়াটসঅ্যাপে বার্তা পাঠানো হলেও তিনি সাড়া দেননি।

স্থানীয় সূত্রগুলোর দাবি, গত এক মাসে সাজেক এলাকায় আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ১৫ থেকে ২০ বার গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনায় এক শিশু গুলিবিদ্ধ হয়ে আহত হয়েছে। নিরাপত্তাহীনতার কারণে আতঙ্কিত হয়ে অনেক বাসিন্দা ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে গেছেন।

এদিকে সাজেক থেকে জেএসএসের সদস্যদের সরিয়ে নেওয়াসহ পাঁচ দফা দাবিতে ইউপিডিএফের ডাকে এলাকায় অনির্দিষ্টকালের অবরোধ চলছে। অবরোধ ও নিরাপত্তাঝুঁকির কারণে জনপ্রিয় পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে পর্যটকদের ভ্রমণ বন্ধ রেখেছে রাঙামাটি জেলা প্রশাসন। ক্রমাগত গোলাগুলি, বাসিন্দাদের আতঙ্ক ও পর্যটন কার্যক্রম বন্ধ থাকায় সাজেকের সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।