সাভার শিল্পাঞ্চলে চলমান শ্রমিক বিক্ষোভে এখন পর্যন্ত ২ মামলা, আটক ১৩

তৈরি পোশাক খাতের শ্রমিকদের সর্বনিম্ন মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ এবং অবৈধভাবে কালো তালিকাভুক্ত করা বন্ধসহ বিভিন্ন দাবিতে সাভার ও আশুলিয়ায় আজও শ্রমিক বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। 

গত কয়েকদিন ধরে চলমান এ বিক্ষোভের সময় ভাংচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় আশুলিয়া থানায় দুটি মামলা দায়ের হয়েছে। এছাড়া সাভার মডেল থানায় একটি মামলা দায়েরের বিষয় প্রক্রিয়াধীন। এরইমধ্যে ১৩ জনকে আটক করেছে পুলিশ।

মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বেলা ১২ টার দিকে সাভার মডেল থানা ও আশুলিয়ার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা বিষয়টি নিশ্চত করেন।

তারা জানান, বিক্ষোভের সময় ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সাভার মডেল থানায় ৯ জনকে ও আশুলিয়া থানায় ৪ জনকে আটক করা হয়েছে। ঃ

এছাড়া গতকাল রাতে সাভারের তেতুলঝোড়া এলাকায় বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় সাভার মডেল থানায় একটি মামলা প্রক্রিয়াধীন বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা। 

সাভার মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. সাইফুল আলম বলেন, “সাভারে সোমবার দিবাগত রাতে তেতুলঝোড়া এলাকায় বাসে অগ্নিসংযোগের ঘটনায় নাশকতার মামলা দায়েরের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। ভাংচুর, অগ্নিসংযোগসহ বিভিন্ন অপরাধে এরইমধ্যে ৯ জনকে আটক করা হয়েছে। 

আশুলিয়া থানার পরিদর্শক (তদন্ত) হারুন অর রশীদ বলেন, “ভাংচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় গতকাল দিবাগত রাতে আশুলিয়া থানায় দুটি মামলা হয়েছে। এখন পর্যন্ত ৪ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।”

আজও হয়েছে বিক্ষোভ, ছুটি ৪০ টি কারখানা

এদিকে আজ মঙ্গলবার সকাল থেকে আশুলিয়ার আব্দুল্লাহপুর থেকে বাইপাল সড়কে নিশ্চিন্তপুর, নরসিংহপুর ও ইউনিক এলাকায় বিক্ষোভ করেছেন শ্রমিকেরা। একপর্যায়ে তাদের সড়ক থেকে সরিয়ে দিতে গেলে পুলিশকে লক্ষ করে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন তারা। পুলিশ টিয়ারশেল নিক্ষেপ করে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এর আগে সকালে আব্দুল্লাহপুর থেকে বাইপাইল সড়কে বিভিন্ন এলাকায় বেশ কয়েকটি কারখানার শ্রমিকেরা কাজ বন্ধ করে কারখানায় বসেছিলেন। পরে সাড়ে ৮ টার দিকে কয়েকটি কারখানা ছুটি ঘোষণা করেন সংশ্লিষ্ট কারখানা কর্তৃপক্ষ। 

বেলা পৌনে ১১ টার দিকে আশুলিয়া শিল্পাঞ্চল পুলিশ-১-এর পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ মোমিনুল ইসলাম ভূঁইয়া বলেন, “উদ্ভুত পরিস্থিতিতে প্রায় ৪০ টি কারখানা ছুটি ঘোষণা করেছে কারখানা কর্তৃপক্ষ। এছাড়া প্রায় ১০ টি কারখানার শ্রমিকরা কাজ বন্ধ করে কারখানায় অবস্থান করছেন।”