নারায়ণগঞ্জে ফের পুলিশ-শ্রমিক ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া

নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লার মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে তৃতীয় দিনের আন্দোলনে সড়কে নেমে বিক্ষোভ শুরু করেন কয়েকটি পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। এ সময় পুলিশ বাধা দিলে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ টিয়ার সেল নিক্ষেপ করে। এ সময় বেশ কয়েকজন আন্দোলনকারীকে পুলিশ আটক করেছে।

বুধবার (৪ নভেম্বর) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোডের পাশে কুতুবআইল কাঠেরপুল এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সকালে ফতুল্লার শিবু মার্কেট ও কাঠেরপুলসহ আশেপাশের এলাকায় শিল্পপ্রতিষ্ঠানের শ্রমিকরা যথারীতি কাজে যোগ দিলেও কিছুক্ষণ পর কয়েকটি কারখানার শ্রমিক কাজ ছেড়ে সড়কে নেমে বিক্ষোভ ও অবরোধের চেষ্টা করেন। এতে শিল্পাঞ্চলজুড়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

একপর্যায়ে কাঠেরপুল এলাকার মেট্রো গার্মেন্টসের শ্রমিকরা সড়কে অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশ তাদের বাধা দেয়। এ সময় উভয় পক্ষের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করে। এতে শ্রমিকরা ছত্রভঙ্গ হয়ে যান। এ সময় পুলিশ তাদের ধাওয়া দিয়ে বেশ কয়েকজনকে আটক করেছে।

স্থানীয় দোকানি জামাল মিয়া বলেন, “বিভিন্ন কারখানার শ্রমিকেরা জড়ো হওয়ার পর তাদের সঙ্গে স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীদের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে পুলিশ এসে শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে। এক পর্যায়ে শ্রমিক ও পুলিশের মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।”

তবে আন্দোলনকারী শ্রমিকরা জানিয়েছেন, মজুরি বৃদ্ধির দাবিতে তারা শান্তিপূর্ণভাবে আন্দোলন করছিলেন। তাদের শান্তিপূর্ণ আন্দোলনে বিএনপির নেতারা এসে শ্রমিকদের মারধর করেন। এরপর পুলিশের অ্যাকশন শুরু হয়।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) তারেক আল মেহেদী বলেন, “পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে আমরা সতর্ক অবস্থানে ছিলাম। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত পাঁচজনকে আটক করা হয়েছে।”

এর আগে, গত সোমবার ও মঙ্গলবার একই দাবিতে ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ লিংক রোড অবরোধ করে বিক্ষোভ করে বিভিন্ন পোশাক কারখানার শ্রমিকরা। বিশেষ করে মঙ্গলবারের আন্দোলনে পুলিশের সঙ্গে শ্রমিকদের ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে প্রায় ১০ জন পুলিশ সদস্য আহত হন। এছাড়া চারজন শ্রমিককে আটক করা হয়।

প্রসঙ্গত, শ্রমিকদের পক্ষ থেকে পাঁচ দফা দাবি জানানো হয়েছিল। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে, ন্যূনতম মজুরি ৩০ হাজার টাকা নির্ধারণ, সব পোশাক কারখানায় রেশনিং ব্যবস্থা চালু, ট্রেড ইউনিয়নের অধিকার বাস্তবায়ন, আমজাদ হোসেন কামালসহ নিহত শ্রমিকদের হত্যার বিচার এবং বিনা কারণে শ্রমিক ছাঁটাই বন্ধ ও শ্রম আইন পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন।