মোংলা বন্দরের প্রয়োজনীয় সংস্কার ও আধুনিকায়ন সম্পন্ন হলে এটি পুরো দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের জন্য একটি সম্ভাবনাময় অর্থনৈতিক হাব হিসেবে আত্মপ্রকাশ করবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে রূপান্তরের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) বাগেরহাটের মোংলায় ৪ হাজার ৬৮ কোটি টাকা ব্যয়ে ‘বন্দর সুবিধা সম্প্রসারণ ও আধুনিকায়ন প্রকল্পের’ আওতায় দুটি কনটেইনার জেটি নির্মাণ ও আনুষঙ্গিক অবকাঠামো উন্নয়নের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
বাগেরহাটের মোংলায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী বলেন, “মোংলা বন্দর দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি হতে পারে। এ বন্দরকে কেন্দ্র করে খুলনা, বাগেরহাট, সাতক্ষীরা ও যশোরসহ সংলগ্ন অঞ্চলের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাপক বিস্তৃত করা সম্ভব। সরকার পঞ্চগড় থেকে মোংলা পর্যন্ত সড়ক যোগাযোগ, বন্দরের সাপ্লাই চেইন এবং পণ্য পরিবহন সুবিধা বৃদ্ধিতে সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করছে।”
অনুষ্ঠানে চীনা সহযোগিতার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের অবকাঠামো ও বাণিজ্য উন্নয়নে অবদান রাখার জন্য চীন সরকারকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। পাশাপাশি খান জাহান আলী বিমানবন্দরের কাজ দ্রুত সম্পন্ন করা সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে উল্লেখ করেন তিনি।
জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তার তাগিদ দিয়ে তারেক রহমান বলেন, বিশ্ব পরিস্থিতিতে দেশীয় পণ্য রপ্তানির পাশাপাশি জ্বালানি, সার, খাদ্যশস্য ও শিল্পের কাঁচামাল আমদানিতে মোংলা বন্দর পরিপূরক ভূমিকা রাখবে। আধুনিক কনটেইনার টার্মিনাল, ইয়ার্ড ও কার্গো হ্যান্ডলিং সুবিধাসম্পন্ন এই প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়িত হলে নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি স্থানীয় তরুণ ও উদ্যোক্তাদের আস্থা বৃদ্ধি পাবে।
তিনি আরও বলেন, ‘‘শুধু নির্মাণকাজ শেষ করাই সাফল্যের বিষয় নয়; বরং সেবার মান, সময় ও খরচ হ্রাস পাওয়া এবং পরিবেশ সুরক্ষার ওপরই প্রকল্পের আসল সফলতা নির্ভর করে। তাই পরিবেশবান্ধব সেবা ব্যবস্থাপনা, জলবায়ু সহনশীল অবকাঠামো তৈরি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহারে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।’’
দেশের অর্থনৈতিক লক্ষ্যমাত্রা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী আন্তর্জাতিক অংশীজন, উন্নয়ন সহযোগী এবং প্রবাসীদের বাংলাদেশে বিনিয়োগের আহ্বান জানান। তিনি আস্বস্ত করেন, বিনিয়োগের অনুকূল পরিবেশ, নির্ভরযোগ্য অবকাঠামো এবং নীতির ধারাবাহিকতা রক্ষায় তার সরকার শতভাগ প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি জানান, আজ সকাল সোয়া ১১টায় প্রধানমন্ত্রী প্রকল্পটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকার কমলাপুর আইসিডি (ইনল্যান্ড কনটেইনার ডিপো) থেকে কনটেইনারবাহী ট্রেন সরাসরি মোংলা বন্দর পর্যন্ত যাতায়াত করতে পারবে।