চিত্রনায়িকা পরীমনির গালিগালাজ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এ বিষয়ে নিজের অবস্থান জানিয়েছেন লেখক তসলিমা নাসরিন।
শুক্রবার (৬ নভেম্বর) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, “পুরুষের মুখে গালি শুনে যেখানে কেউ ভ্রু কুঁচকায় না, সেখানে নারীর মুখে একই গালি শুনলে সবাই আঁতকে ওঠে।”
পোস্টে তিনি প্রশ্ন তোলেন, “মেয়ে হয়েও এমন নোংরা কথা”, এই মনোভাবের অর্থ কী? মেয়ে হলে কি অপমান গিলে মুখে মধু মেখে বসে থাকতে হবে? গালি দেওয়ার অধিকারও কি কেবল পুরুষের?
তসলিমা নাসরিনের মতে, ভালো গুণের মতো খারাপ গুণও কোনো একটি লিঙ্গের একচেটিয়া সম্পত্তি নয়। তিনি লেখেন, পুরুষ শাসক যেমন বর্বর হতে পারে, নারী শাসকও পারে। পুরুষ যেমন নৃশংস হতে, হত্যা করতে, ষড়যন্ত্র করতে, পরকীয়া ও প্রতারণা করতে পারে, নারীও পারে। নারী মানেই মমতাময়ী, সহনশীলা, পবিত্র ও নিষ্পাপ, এই ছাঁচ পুরুষতন্ত্রের তৈরি। এর মাধ্যমে নারীর রাগ, ঘৃণা বা কটু কথা বলার সুযোগ কেড়ে নেওয়া হয়, আর পুরুষ যা-ই করুক, নারীকে দেবী হয়ে থাকতে বলা হয়।
তিনি আরও বলেন, “সমান অধিকার পেতে নারীকে কেন পুরুষের চেয়ে ভালো মানুষ হওয়ার পরীক্ষা দিতে হবে? কোনো নারী অসভ্যতা করলে তার সমালোচনা হোক, কিন্তু ‘মেয়ে হয়েও অসভ্য কেন’ প্রশ্ন তোলা ঠিক নয়। নৃশংসতার বিচার হওয়া উচিত নৃশংসতা হিসেবে, প্রতারণার বিচার প্রতারণা হিসেবে।” নারী করলে বাড়তি অপরাধ আর পুরুষ করলে “সাত খুন মাফ”, এই দ্বিচারিতা বন্ধের দাবি জানান তিনি।
পোস্টের শেষাংশে তসলিমা নাসরিন লেখেন, প্রজননে নারী ও পুরুষের কিছু জৈবিক পার্থক্য থাকলেও তা কাউকে প্রভু আর কাউকে দাসী বানানোর যুক্তি হতে পারে না। নারী-পুরুষ সমান মর্যাদার মানুষ। অথচ রাষ্ট্র, সমাজ ও পরিবারের নানা আইন ও প্রথা এখনো পুরুষকে নারীর ওপরে বসিয়ে রেখেছে। যোগ্যতা, সততা বা মানবিকতা না থাকলেও শুধু পুরুষ হওয়ার কারণে বাড়তি ক্ষমতা, স্বাধীনতা ও ছাড় পাওয়া যায় বলে তিনি মন্তব্য করেন।